13/08/2026
#প্রবাসে_অবস্থানরত_প্রবাস_গামীদের_দৃষ্টিআাকর্ষন বিদেশে চাকরির জন্য বাংলাদেশ থেকে মানুষ যাওয়ার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করার মূল আইন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩ইং
ধারা ২ — সংজ্ঞা, এই ধারায় আইনে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলোর অর্থ বলা হয়েছে। যেমন—
#অভিবাসন: চাকরি বা পেশার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া।
#অভিবাসী_কর্মী: বিদেশে চাকরির জন্য প্রস্তুত, বিদেশে কর্মরত অথবা কাজ শেষে দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশি কর্মী।
#নিয়োগকারী: বিদেশে কর্মী নিয়োগকারী ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান।
#রিক্রুটিং_এজেন্ট: সরকারের কাছ থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তি।
#প্রতারণা: মিথ্যা তথ্য, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বা অন্য কোনোভাবে কাউকে ভুল বুঝিয়ে সুবিধা নেওয়া।
#সাব_এজেন্ট_প্রতিনিধি: ২০২৩ সালের সংশোধনের মাধ্যমে যুক্ত; নিবন্ধিত ব্যক্তি যিনি রিক্রুটিং এজেন্টের হয়ে কর্মী সংগ্রহ করেন।
#ধারা ৩ — অভিবাসী কর্মী প্রেরণের কর্তৃত্ব
বিদেশে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
সরকারের অনুমোদিত বিএমইটি/ব্যুরো, সরকারি সংস্থা এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্ট কর্মী নিয়োগ ও পাঠানোর কাজ করতে পারে।
#ধারা ৪ — অভিবাসন
আইনের নিয়ম না মেনে বিদেশে চাকরির জন্য যাওয়া বা কাউকে পাঠানো যাবে না।
বিদেশ যাওয়ার সময় সাধারণত থাকতে হবে—
বৈধ নিয়োগ/নির্বাচনের প্রমাণ, ভিসা,
নিয়োগপত্র/ওয়ার্ক পারমিট/অনাপত্তিপত্র,
এবং ধারা ২০ অনুযায়ী বহির্গমন ছাড়পত্র।
া: দালালের কথায় বা কাগজপত্র ছাড়া বিদেশে চাকরির জন্য যাওয়া বৈধ নয়।
#ধারা ৫ — কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে আইন প্রযোজ্য নয়
কিছু নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য নয়। যেমন—
সরকারি কর্মকর্তা সরকারি অনুমতিতে বিদেশে গেলে,
ছাত্র, প্রশিক্ষণার্থী, পর্যটক, চিকিৎসার জন্য যাওয়া ব্যক্তি, ধর্মীয় উদ্দেশ্যে যাওয়া ব্যক্তি, ব্যবসা বা বিনিয়োগের জন্য যাওয়া ব্যক্তি, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশির নির্ভরশীল ব্যক্তি ইত্যাদি।
#ধারা ৬ — সমতা নীতি
বিদেশে কর্মী নির্বাচন বা পাঠানোর ক্ষেত্রে বৈষম্য করা যাবে না।
ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, বয়স, ভাষা, জন্মস্থান, সামাজিক পরিচয়, বৈবাহিক অবস্থা ইত্যাদির কারণে বৈষম্য করা নিষিদ্ধ।
ধারা ৭ — বহির্গমনের স্থান।
সরকার গেজেটের মাধ্যমে যে বন্দর বা স্থান নির্ধারণ করবে, সেখান থেকেই বিদেশে কর্মী পাঠাতে হবে।
া: অনুমোদিত বিমানবন্দর/বন্দর ছাড়া অন্য কোনো জায়গা দিয়ে কর্মী পাঠানো যাবে না।
ধারা ৮ — অভিবাসন সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা
কোনো দেশে বাংলাদেশিদের যাওয়া যদি—
রাষ্ট্রীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে হয়, জনস্বার্থের ক্ষতি করে,
স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করে,
তাহলে সরকার সেই দেশে অভিবাসন সাময়িকভাবে বন্ধ করতে পারে।
ধারা ৯ — লাইসেন্স
সরকারের লাইসেন্স ছাড়া কেউ বিদেশে কর্মী নিয়োগের কাজ করতে পারবে না।
লাইসেন্সের জন্য ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর সংক্রান্ত কাগজ, ব্যাংক হিসাব, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ইত্যাদি দিতে হয়।
া: লাইসেন্স ছাড়া বিদেশে কর্মী পাঠানোর ব্যবসা করা বেআইনি।
ধারা ১০ — লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতা
কিছু ব্যক্তি রিক্রুটিং এজেন্টের লাইসেন্স পাবেন না। যেমন—
বাংলাদেশের নাগরিক নন, অপ্রাপ্তবয়স্ক, দেউলিয়া, মানবপাচার/অর্থপাচার/গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত, নির্দিষ্ট গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি।
কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অন্তত নির্দিষ্ট অংশ বাংলাদেশি মালিকানা/নিয়ন্ত্রণের শর্তও রয়েছে।
ধারা ১১ — লাইসেন্সের মেয়াদ ও নবায়ন
রিক্রুটিং এজেন্টের লাইসেন্স সাধারণভাবে ৩ বছর মেয়াদি। নির্ধারিত নিয়ম ও ফি দিয়ে নবায়ন করতে হয়।
ধারা ১২ — লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল। যদি রিক্রুটিং এজেন্ট—
মিথ্যা তথ্য দিয়ে লাইসেন্স নেয়, লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে, আইন বা বিধি ভঙ্গ করে, গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত হয়, বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে, তাহলে সরকার লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করতে পারে।
২০২৩ সালের সংশোধনে কিছু ক্ষেত্রে জরিমানা এবং জরুরি অবস্থায় তদন্ত/শুনানি চলাকালীন লাইসেন্স স্থগিতের ব্যবস্থাও যুক্ত হয়েছে।
ধারা ১৩ — লাইসেন্স প্রত্যাহার
জনস্বার্থে সরকার গেজেটের মাধ্যমে কোনো রিক্রুটিং এজেন্টের লাইসেন্স প্রত্যাহার করতে পারে।
ধারা ১৪ — শাখা অফিস
সরকারের পূর্বানুমতি নিয়ে রিক্রুটিং এজেন্ট শাখা অফিস খুলতে পারে।
ধারা ১৪ক — সাব-এজেন্ট বা প্রতিনিধি নিয়োগ
২০২৩ সালের সংশোধনের মাধ্যমে এই ধারা যুক্ত হয়।
রিক্রুটিং এজেন্ট নির্ধারিত নিয়মে নিবন্ধিত সাব-এজেন্ট/প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারে।
া: এখন বৈধ সাব-এজেন্ট হতে হলে নিবন্ধিত হতে হবে।
ধারা ১৫ — রিক্রুটিং এজেন্টের দায়িত্ব। রিক্রুটিং এজেন্টের প্রধান দায়িত্ব—
কর্মীর স্বার্থ রক্ষা করা; প্রয়োজন হলে কর্মীকে নিবন্ধন করানো; বহির্গমন ছাড়পত্র সংগ্রহ করা; কর্মসংস্থান চুক্তি অনুযায়ী চাকরি ও সুবিধা নিশ্চিত করা; নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা;
সরকারের নির্ধারিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করা।
ধারা ১৬ — রিক্রুটিং এজেন্টের শ্রেণীবিভাগ
সরকার রিক্রুটিং এজেন্টদের নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করতে পারে।
া: ভালো/খারাপ কর্মদক্ষতা, সক্ষমতা ও নির্ধারিত শর্তের ভিত্তিতে এজেন্সির শ্রেণী নির্ধারণ করা যায়।
ধারা ১৭ — লাইসেন্স হস্তান্তর ও ঠিকানা পরিবর্তন
রিক্রুটিং এজেন্ট নিজের লাইসেন্স অন্যের কাছে হস্তান্তর করতে পারবে না।
মালিক মারা গেলে লাইসেন্স সরাসরি উত্তরাধিকারীর নামে চলে যায় না। উত্তরাধিকারী নতুন লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন।
সরকারের অনুমতি ছাড়া—
মালিকানা/শেয়ার হস্তান্তর, ব্যবসার ঠিকানা পরিবর্তন, অনুমোদিত শাখার ঠিকানা পরিবর্তন করা যাবে না।
ধারা ১৮ — জামানত বাজেয়াপ্ত
রিক্রুটিং এজেন্টের লাইসেন্স বাতিল হলে তার জমা দেওয়া জামানত সরকার বাজেয়াপ্ত করতে পারে। এই টাকা দিয়ে—
ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীকে ক্ষতিপূরণ, বিদেশে আটকে পড়া কর্মীকে দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ মেটানো যেতে পারে।
া: এজেন্সির অপরাধে কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হলে জামানতের টাকা কর্মীর কাজে লাগানো যেতে পারে।
ধারা ১৯ — অভিবাসী কর্মীর নিবন্ধন
বিদেশে কাজ করতে ইচ্ছুক কর্মীকে তার পেশা উল্লেখ করে ব্যুরোর কাছে নিবন্ধন করতে হবে।
বিদেশে থাকা কর্মী আগে নিবন্ধিত না হলেও বাংলাদেশ মিশন/দূতাবাসে নিবন্ধন করতে পারেন।
ধারা ২০ — বহির্গমন ছাড়পত্র
অভিবাসনের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে ব্যুরো কর্মীকে বহির্গমন ছাড়পত্র দেবে।
এতে পাসপোর্ট, নিবন্ধন, আঙুলের ছাপ, বায়োমেট্রিকসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকতে পারে।
ধারা ২১ — অভিবাসন ব্যয়
বিদেশে যেতে একজন কর্মীর সর্বোচ্চ কত টাকা খরচ হতে পারে, সরকার আদেশ দিয়ে তা নির্ধারণ করতে পারে।
া: এজেন্সি ইচ্ছামতো অতিরিক্ত টাকা নিতে পারে না।
ধারা ২২ — কর্মসংস্থান চুক্তি
বিদেশ যাওয়ার আগে কর্মী ও নিয়োগকর্তার মধ্যে চাকরির চুক্তি থাকতে হবে। চুক্তিতে থাকতে হবে, যেমন—
বেতন, বাসস্থান, চাকরির মেয়াদ, দুর্ঘটনা/মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ,বিদেশ যাওয়ার খরচ, দেশে ফেরার খরচ ইত্যাদি।
রিক্রুটিং এজেন্ট ও বিদেশি নিয়োগকর্তা চুক্তির দায়িত্বের জন্য দায়ী হতে পারেন।
ধারা ২৩ — শ্রম কল্যাণ উইং
যেসব দেশে অনেক বাংলাদেশি কর্মী কাজ করেন, সেখানে বাংলাদেশ মিশন/দূতাবাসে শ্রম কল্যাণ উইং প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।
ধারা ২৪ — শ্রম কল্যাণ উইংয়ের দায়িত্ব। শ্রম কল্যাণ উইং—
কর্মস্থল পরিদর্শন করবে, প্রয়োজনে নিয়োগকর্তার সঙ্গে কথা বলবে, কর্মীদের সমস্যা দেখবে, আটক/কারাবন্দি কর্মীদের তথ্য রাখবে, মৃত কর্মীর তথ্য সংগ্রহ করবে, আইনি সহায়তা ও অন্যান্য সেবা সম্পর্কে রিপোর্ট করবে। প্রতি বছর সরকারের কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
ধারা ২৫ — অভিবাসন বিষয়ক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি
বাংলাদেশ বিদেশি দেশের সঙ্গে MOU বা দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করতে পারে।
উদ্দেশ্য—
কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, নিরাপদ অভিবাসন, কর্মীর অধিকার রক্ষা, দেশে ফেরত আনা, পুনর্বাসন, পরিবার ও কর্মীর কল্যাণ নিশ্চিত করা।
ধারা ২৬ — তথ্যের অধিকার
বিদেশ যাওয়ার আগে কর্মীর জানার অধিকার আছে—
বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়া, চাকরির চুক্তি, বেতন, কর্মপরিবেশ, নিজের আইনি অধিকার সম্পর্কে।
ধারা ২৭ — আইনগত সহায়তা
অভিবাসী কর্মী বা অভিবাসনের নামে প্রতারিত ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গত আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার রাখেন।
ধারা ২৮ — দেওয়ানি মামলা করার অধিকার
কর্মসংস্থান চুক্তি বা এই আইনের কোনো বিধান ভঙ্গ করে ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণের জন্য দেওয়ানি মামলা করা যায়।
ধারা ২৯ — দেশে ফিরে আসার অধিকার
বিদেশে আটক, বিপদগ্রস্ত বা আটকে পড়া কর্মীর দেশে ফেরার অধিকার রয়েছে।
বাংলাদেশ মিশন/দূতাবাস প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পারে।
রিক্রুটিং এজেন্টের অবহেলা বা বেআইনি কাজের কারণে কর্মী বিপদে পড়লে সরকার এজেন্টকে দেশে ফেরানোর খরচ বহনের নির্দেশ দিতে পারে।
ধারা ৩০ — আর্থিক ও অন্যান্য কল্যাণমূলক কর্মসূচি
সরকার অভিবাসী কর্মী ও পরিবারের জন্য—
ব্যাংক ঋণ, কর সুবিধা, সঞ্চয়, বিনিয়োগ, আর্থিক সহায়তা, বৃত্তি, দক্ষতা প্রশিক্ষণ, পুনর্বাসন/পুনঃএকত্রীকরণ ইত্যাদি কর্মসূচি নিতে পারে।
নারী অভিবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় বিশেষ কর্মসূচির ব্যবস্থাও রয়েছে।
ধারা ৩০ক — অভিবাসী কর্মীর দায়িত্ব। প্রত্যেক কর্মীর দায়িত্ব—
বিদেশ যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নেওয়া, বৈধ পদ্ধতি অনুসরণ করা, বিদেশে গিয়ে আইনবিরোধী কাজে অংশ না নেওয়া, প্রয়োজনীয় সঠিক তথ্য ও কাগজপত্র প্রদান করা।
#ধারা৩১_অবৈধভাবে_কর্মী_পাঠানো_অর্থ_গ্রহণ_ইত্যাদির_দণ্ড
কেউ যদি—
আইন ভেঙে কর্মী বিদেশে পাঠায়,
বিদেশে চাকরির মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে টাকা নেয়,
বৈধ কারণ ছাড়া কর্মীর পাসপোর্ট/ভিসা আটকে রাখে,
বেশি বেতন বা সুবিধার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়,
প্রতারণা করে, তাহলে অপরাধ হবে।
#দণ্ড_সর্বোচ্চ_৫_বছর_কারাদণ্ড_এবং_কমপক্ষে_১_লাখ_টাকা_জরিমানা
#ধারা ৩২ — অনুমোদন ছাড়া বিজ্ঞাপন
সরকার/ব্যুরোর অনুমোদন ছাড়া বিদেশে চাকরি বা অভিবাসন সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রচার করা অপরাধ।
#দণ্ড: সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা।
#ধারা ৩৩ — চাহিদাপত্র, ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিটের অবৈধ কেনাবেচা
অবৈধভাবে বিদেশের চাহিদাপত্র, ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ বা বাংলাদেশে কেনাবেচা করলে অপরাধ হবে।
#দণ্ড: কমপক্ষে ২ বছর এবং সর্বোচ্চ ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, সঙ্গে কমপক্ষে ৩ লাখ টাকা জরিমানা।
#ধারা ৩৩ক — লাইসেন্স বাতিলের পরও রিক্রুটমেন্ট
রিক্রুটিং এজেন্টের লাইসেন্স বাতিল/প্রত্যাহার হওয়ার পরও যদি সে রিক্রুটমেন্ট চালায়, তাহলে অপরাধ হবে।
#দণ্ড: ১–২ বছর কারাদণ্ড এবং ১–৫ লাখ টাকা জরিমানা।
#ধারা_৩৪_নির্ধারিত_স্থান_ছাড়া_অন্য_স্থান_দিয়ে_বিদেশ_পাঠানো।
সরকার নির্ধারিত বহির্গমন স্থান ছাড়া অন্য কোনো স্থান দিয়ে কাউকে বিদেশ পাঠানোর ব্যবস্থা করা বা সহায়তা করা অপরাধ।
#দণ্ড_সর্বোচ্চ_১০বছর_সশ্রম_কারাদণ্ড_এবং_কমপক্ষে_৫_লাখ_টাকা_জরিমানা।
ধারা ৩৫ — অবৈধ শাখা অফিস/সাব-এজেন্ট।
অনুমোদন ছাড়া শাখা অফিস পরিচালনা বা অনুমোদন ছাড়া সাব-এজেন্ট নিয়োগ করলে অপরাধ।
এছাড়া নিবন্ধন ছাড়া কেউ নিজেকে সাব-এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দিলেও অপরাধ হবে।
সহজ_কথা: অনুমোদন ছাড়া “দালাল” হিসেবে এজেন্সির হয়ে কর্মী সংগ্রহ করা শাস্তিযোগ্য।
#ধারা ৩৫ক — অন্যান্য অপরাধের দণ্ড।
আইনে কোনো নির্দিষ্ট লঙ্ঘনের জন্য আলাদা শাস্তি না থাকলেও আইন ভঙ্গ করলে এই ধারা প্রযোজ্য হতে পারে।
#দণ্ড: সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয়ই। ২০২৪ সালের সংশোধনী অধ্যাদেশে এই ধারা যুক্ত হয়।
#ধারা৩৬_অপরাধে_সহায়তা_বা_প্ররোচনা
কেউ নিজে অপরাধ না করেও অন্যকে অপরাধ করতে সহায়তা বা প্ররোচনা দিলে এবং সেই অপরাধ সংঘটিত হলে, মূল অপরাধের জন্য যে শাস্তি নির্ধারিত, সহায়তাকারী/প্ররোচনাকারীও সেই শাস্তি পেতে পারেন।
এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ধারা। শুধু মূল প্রতারক নয়, তাকে সহযোগিতাকারী ব্যক্তিও দায়ী হতে পারেন।
ধারা ৩৭ — কোম্পানির মাধ্যমে অপরাধ
কোম্পানি/প্রতিষ্ঠান অপরাধ করলে সংশ্লিষ্ট পরিচালক, কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, সচিব বা কর্মচারীও দায়ী হতে পারেন।
তবে তিনি প্রমাণ করতে পারেন যে—
অপরাধটি তার অজ্ঞাতে হয়েছে এবং অপরাধ ঠেকাতে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। তাহলে তিনি দায়মুক্ত হতে পারেন।
ধারা ৩৮ — বিচার
এই আইনের অপরাধ প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বিচার করবেন।
অভিযোগ গঠনের পর সাধারণভাবে ৪ মাসের মধ্যে বিচার শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে; বিশেষ কারণে সময় বাড়ানোর বিধানও আছে।
#ধারা৩৯_আমলযোগ্যতা_জামিন_ও_আপোষ
এখানে কোন অপরাধ—
আমলযোগ্য কি না, জামিনযোগ্য কি না, আপস করা যাবে কি না তা নির্ধারণ করা হয়েছে।
#বিশেষ_করে_৩১_৩৩_৩৪ ধারার অপরাধ আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও অ-আপসযোগ্য। #অন্যদিকে_৩২_৩৩ক_৩৫_৩৫ক-এর অপরাধগুলো অ-আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য ও আপসযোগ্য হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
ধারা ৪০ — মোবাইল কোর্ট
আইনের নির্দিষ্ট কিছু অপরাধ, যদি মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিলভুক্ত হয়, তাহলে মোবাইল কোর্টে বিচার হতে পারে।
ধারা ৪১ — সরকারের কাছে অভিযোগ
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সরকারের কাছে অভিযোগ করতে পারেন, যেমন—
প্রতারণা, অবৈধভাবে টাকা নেওয়া, চাকরির চুক্তি ভঙ্গ, রিক্রুটিং এজেন্টের অনিয়ম।
অভিযোগ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত ও প্রমাণিত হলে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে।
ধারা ৪২ — তল্লাশি
অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং বিদেশগামী কর্মীর স্বার্থ রক্ষার জন্য সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা—
কোনো স্থান, বিদেশগামী যানবাহন, বাংলাদেশে আসা যানবাহন তল্লাশি করতে পারেন।
#ধারা_৪৩_অবৈধভাবে_নেওয়া_টাকা_উদ্ধার
আইন ভেঙে কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলে সরকার তদন্ত করে সেই টাকা উদ্ধার করতে পারে।
উদ্ধারকৃত টাকা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেওয়া যেতে পারে।
ধারা ৪৪ — ক্ষমতা অর্পণ ও প্রতিনিধি নিয়োগ
সরকার তার কিছু ক্ষমতা বা দায়িত্ব অন্য সরকারি কর্তৃপক্ষ/কর্মকর্তাকে দিতে পারে। বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজন হলে বিভিন্ন দেশে প্রতিনিধি নিয়োগও করতে পারে।
ধারা ৪৫ — অসুবিধা দূরীকরণে সরকারের ক্ষমতা
আইন বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা দেখা দিলে সরকার সরকারি গেজেটে আদেশ দিয়ে সেই সমস্যা দূর করার ব্যবস্থা নিতে পারে।
#ধারা৪৬_অন্যান্য_আইনের_পরিপূরক
এই আইন একা কাজ করবে না। প্রয়োজনে অন্যান্য আইনও প্রযোজ্য হবে, যেমন— #পাসপোর্ট_আইন #ইমিগ্রেশন_আইন #বৈদেশিক_সম্পর্ক_সংক্রান্ত_আইন #বৈদেশিক মুদ্রা আইন #অর্থপাচার আইন #মানবপাচার আইন #তথ্য অধিকার আইন ইত্যাদি।
ধারা ৪৭ — বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইন বাস্তবায়নের জন্য সরকার সরকারি গেজেটের মাধ্যমে বিধি তৈরি করতে পারে।
ধারা ৪৮ — ইংরেজি অনুবাদ
আইনের একটি Authentic English Text প্রকাশের ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধ হলে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাবে।
ধারা ৪৯ — রহিতকরণ ও হেফাজত
এই আইন করে Emigration Ordinance, 1982 বাতিল করা হয়েছে।
তবে পুরোনো অধ্যাদেশের অধীনে করা বৈধ কার্যক্রম, বিধি, আদেশ বা নোটিশ—এই আইনের সঙ্গে অসঙ্গত না হলে—নতুন আইন অনুযায়ী বহাল থাকতে পারে।
পুরোনো আইনের অধীনে আদালতে চলমান মামলাও নির্ধারিত নিয়মে চলতে থাকবে।
⭐ #সবচেয়ে_গুরুত্বপূর্ণ_ধারাগুলো_একনজরে
৩. কর্মী পাঠানোর কর্তৃত্ব সরকার নিয়ন্ত্রণ করবে।
৪. বৈধ অভিবাসন কাগজপত্র ছাড়া বিদেশে চাকরি নয়।
৬. সমতা বৈষম্য করা যাবে না।
৯. লাইসেন্স লাইসেন্স ছাড়া রিক্রুটিং নয়।
১২. লাইসেন্স বাতিল/স্থগিত এজেন্সির অনিয়মে ব্যবস্থা।
১৪ক. সাব-এজেন্ট নিবন্ধিত সাব-এজেন্ট।
১৫. এজেন্টের দায়িত্ব কর্মীর স্বার্থ রক্ষা।
১৯. নিবন্ধন কর্মীর নিবন্ধন।
২০. ছাড়পত্র বৈধভাবে বহির্গমন।
২১. অভিবাসন ব্যয় খরচের সীমা।
২২. চাকরির চুক্তি বেতন-সুবিধা লিখিত থাকতে হবে।
২৬. তথ্যের অধিকার বিদেশ যাওয়ার আগে তথ্য জানার অধিকার।
২৭. আইনি সহায়তা প্রতারিত হলে সহায়তা।
২৮. দেওয়ানি মামলা ক্ষতিপূরণ দাবি।
২৯. দেশে ফেরার অধিকার বিপদে দেশে ফিরতে পারবেন।
৩০. কল্যাণ কর্মী ও পরিবারের সহায়তা।
৩০ক. কর্মীর দায়িত্ব বৈধ পথে যাওয়া ও আইন মানা।
৩১. প্রতারণা/অবৈধ প্রেরণ সর্বোচ্চ ৫ বছর + জরিমানা।
৩২. অনুমোদনহীন বিজ্ঞাপন সর্বোচ্চ ১ বছর + জরিমানা।
৩৩. ভিসা/চাহিদাপত্র কেনাবেচা ২–৭ বছর + জরিমানা।
৩৩ক. লাইসেন্স বাতিলের পর রিক্রুটিং ১–২ বছর + জরিমানা।
৩৪. অবৈধ পথে বহির্গমন সর্বোচ্চ ১০ বছর + জরিমানা।
৩৫. অবৈধ শাখা/সাব-এজেন্ট শাস্তিযোগ্য।
৩৫ক. অন্যান্য লঙ্ঘন ৬ মাস/৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
৩৬. সহায়তা/প্ররোচনা মূল অপরাধের শাস্তি।
৩৮. বিচার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
৩৯. জামিন/আপস অপরাধভেদে আলাদা।
৪১. অভিযোগ সরকারের কাছে অভিযোগ।
৪২. তল্লাশি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ক্ষমতা।
৪৩. টাকা উদ্ধার অবৈধ টাকা ফেরত।
৪৭. বিধি সরকার বিধি করতে পারে।
৪৯. পুরোনো অধ্যাদেশ রহিত ১৯৮২ সালের অধ্যাদেশ বাতিল।
"আইন জানুন সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজের এবং অপরের অধিকার রক্ষা করুন অপরাধ থেকে বিরত থাকুন "
#শুভেচ্ছান্তে
অ্যাডভোকেট মুক্তার হোসেন নাঈম, অ্যাড. জি.এম. মুক্তার হোসেন
জেলা ও দায়রা জজ আদালত কুমিল্লা।
#কোর্ট চেম্বারঃ (মুক্তার 'ল' চেম্বার)
আদালত পূর্ব গেইট রাধুনি রেস্তোরাঁ সংলগ্ন রুম নং ১৭।
#সাপ্তাহিক_চেম্বারঃ
মরহুম হাজী মোঃ মনির হোসেন স্মৃতি আইনী পরামর্শ কেন্দ্র('ল' চেম্বার)
উজিরাকান্দি সৎমেহের বিবির বাজার (ভূইয়ার বাজার) তিতাস, কুমিল্লা।
মোবাইল ০১৮২১-১৯৮২৩৭, ০১৯১২-৮৮১১৬৮