10/07/2026
আইনজীবীদের ইনকাম হারাম না। ধরেন, একজন আইনজীবী তার মক্কেলের থেকে ফিস বা সম্মানী নিবে। এইটা হালাল। এদিকে আদালতে ঘুষ নেওয়া হয় কিনা জানি না, এই ধরেন কোন পেস্কার যদি নথি দেওয়ার জন্য ঘুষ নেয় বা মামলার তারিখ বলার জন্য ঘুষ নেয় সেইটা তো আইনজীবীর দোষ নয়।
ধরেন, ক্রিমিনাল মামলায় দুইটা পার্টি থাকে একজন হলো ভিক্টিম আরেকজন হলো ডিফেন্ডেন্ট। এখন ভিক্টিমের পক্ষে থাকে রাস্ট্রপক্ষ। মামলার ফ্যাক্টে একজন ভিক্টিম পুরোপুরি সত্য লিখে না। ধরেন, কেউ আপনার মাথা ফাটিয়েছে একা। এই দেশের লোকেরা মামলা করে দশজনের নামে। ও মাথা ফাটিয়েছে, ওর বাবা ছিল, ওর ভাই ছিল, সবাই ছিল। নামে পুরো পরিবারের নামে মামলা দেয়। আবার ধরেন, একজনের বাড়িতে একজন চোর চুরি করলো ৪ লাখ টাকা। মামলা করার সময় ভিক্টিম লিখে দেয় যে ১০ লাখ টাকার মালামাল ছিল।
আবার তেমনি, একজন অ্যাক্কিউসড তার জবানবন্দিতে খুন করলে বলে যে আমি করিনি। ধরেন, যে ১০ লাখ টাকা নেয়নি সে নিয়েছে ৪ লাখ। সে তো চাপে পরে ১০ লাখ টাকার কথায় স্বীকার করবে।
অ্যাক্কিউসড এর ডিফেন্স লইয়ারের কাজ কি? ঐ যে মাথা ফাটিয়েছে সে বাদে সবাইকে জামিনে বের করে আনা এবং সে বাদে বাকিদের বেকসুর খালাস পাইয়ে দেওয়া। আবার যে চোর মাত্র ৪ লাখ টাকা চুরি করেছে আইনজীবীর কাজ প্রমাণ করা যে সে মাত্র ৪ লাখ ই চুরি করেছে। এই দেশে চোরের সিনাজুরি চলে। ধরেন, নারী নির্যাতন মামলা করা খুব সহজ কাজ একটা ছেলের পরিবারের উপর। শুধু হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এই ডকুমেন্ট টাকা খাইয়ে আনতে পারলে আর জি আর মামলা না করে সি আর মামলা করলে আদালত ওসি (তদন্ত) দিয়ে দিবে আর টাকা খাইয়ে আরো স্ট্রং ডকুমেন্ট আনতে পারলে আদালত বলবে গ্রেফতার করতে। এই যে ভুয়া মামলা করে পুরো পরিবারকে জেলে দিল, এই পরিবারকে ছাড়াবে কে? একজন ডিফেন্স লইয়ার।
ধরেন, একজন রাজনীতিবীদ, সে খুন করেছে। সে আইনজীবীর কারণে পাড় পায় না। সে কল দিবে মন্ত্রীকে, সে কল দিবে প্রশাসনের বড় হরতা কর্তাকে। সে তার পাওয়ার দিয়ে সবার আগে এভিডেন্স টেম্পার করবে, এরপর ভিক্টিমদের ভয় দেখাবে, অন্যদিকে উপর মহলের কল। জাজ সঠিক ভাবে বিচার করতে পারবে না, অন্যদিকে পুলিশ নিজেদের ন্যায় মোতাবেক তদন্ত করতে পারবে না। এই লোক একজন আইনজীবী হায়ার করবে। সেই আইনজীবী জানে যে এই লোক হারবে। কিন্তু এই লোক অন্য জায়গায় কাহিনী করে পাড় পেয়ে আসবে। সেইটা এই আইনজীবীর কারণে না।
কিন্তু, হ্যাঁ কিছু মামলাবাজ আইনজীবী আছে। কিছু মিথ্যাবাদী আইনজীবী আছে এদের ইনকাম হারাম। কিন্তু সব ইনকাম না। ধরেন, একটা মামলায় সে মিথ্যা বলেছে যে মামলায় মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে সেই মামলার টাকা হারাম হতে পারে। কিন্তু যে মামলায় সে ভিক্টিমের লইয়ার সেই টাকা হারাম না। আইনজীবীদের খুব রেয়ার এমন কেইস আসে যেখানে তাদের মিথ্যা বলতে হয়। তাছাড়া সব চলে ফ্যাক্টের খেলায়। আইনজীবীরা মক্কেলদের সাথে এত কথায় বলে না সিনেমায় যেভাবে দেখায়। তারা মামলার নথি হাঁতে নিবে তারপর ফ্যাক্টে যা আছে সেইটা নিয়ে খেলবে। যে ব্যক্তি চাইবে যে সে আইনপেশায় সৎ থাকবে তার কোনদিন ইনকাম হারাম হবে না। এইদেশে ভিক্টিম আর অ্যাক্কিউসড উভয় পক্ষ মিথ্যাবাদী। এই দেশে কেউ দুধে ধোয়া তুলসী পাতা নয়। আপনি একজনকে একটা চড় মারবেন। সে হাঁতে প্লাস্টার পরে মামলা করবে যে লাঠি দিয়ে মেরেছেন।
তিন প্রকারের মানুষ বলবে আইনজীবীদের ইনকাম হারাম।
১। যারা কোনদিন মামলা খায়নি।
২। যারা বেশি শিক্ষিত নয়।
৩। যারা কোন দুস্ট আইনজীবীর কারণে তাদের শত্রুদের দ্বারা মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছিল।
সবশেষে একটা সিনারিও বলি, একটা নারী যে মামলাবাজ। যার কাজ ই হলো মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করা। এইসব নারীদের একেক জেলায় ভাড়া করে। সে আদালতে এসে বললো, আমি ভিক্টিম আমি থানায় গিয়েছে মামলা নেয়নি। আপনি দয়া করে সি আর মামলা ফাইল করেন। আইনজীবী অচেনা সেই নারীর ফ্যাক্ট ই তো বিশ্বাস করবে। তার সময় আছে সে সত্য বলছে নাকি মিথ্যা বলছে গোয়েন্দার মত দেখার? সে মামলা ফাইল করলো। আদালত গ্রেফতারের জন্য ওয়ারেন্ট দিয়ে দিল। পরে সেই নারী হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। সে যে নাম দিয়েছিল মিথ্যা, নথিও দিয়েছিল মিথ্যা। এইটা কি ঐ আইনজীবীর দোষ? সে যে টাকা নিয়ে মামলা করেছে এইটা কি সেই আইনজীবীর দোষ? ঐ নারী জানত মামলা টিকবে না। তাকে ভাড়ায় করা হয়েছে এই মামলা ফাইল করিয়ে ঐ লোককে সাময়িক জেল খাটানোর জন্য। এই দায় কি ঐ আইনজীবীর?
লেখক- Mosabber Hossain Muid