17/07/2026
ধারা ১৭০: রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা
ধারা ১৭০-এর মূল উদ্দেশ্য (Core Concept)
এই ধারার মূল উদ্দেশ্য হলো— কোন করদাতাকে কখন আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে রিটার্ন দাখিল করলে কী সুবিধা বা অসুবিধা হবে, তা নির্ধারণ করা।
সহজভাবে বললে—
ধারা ১৭০ আমাদের শেখায়—"রিটার্ন কখন দিতে হবে?" এবং "আগে বা পরে দিলে কী হবে?"
ধারা ১৭০(১)
আইনটি কী বলছে?
স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের (HUF) করদাতারা আয়বর্ষ শেষ হওয়ার পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করবেন। এখানে আইন প্রথমেই একটি সাধারণ নিয়ম দিয়েছে।
যদি আপনি একজন—
• চাকরিজীবী
• ব্যবসায়ী
• ডাক্তার
• প্রকৌশলী
• আইনজীবী
• ফ্রিল্যান্সার
• অথবা অন্য কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি হন,
তাহলে আপনার রিটার্ন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে।
অর্থাৎ, সবার জন্য একই শেষ তারিখ নয়; আইন নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।
মূল থিম : Natural Person-এর Return Due Date নির্ধারণ করা।
ধারা ১৭০(১)(ক)
কী বলা হয়েছে?
যদি করদাতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করেন, তাহলে কখনো কর প্রণোদনা (Tax Rebate/Incentive) পাবেন, আবার কখনো কোনো অতিরিক্ত করও দিতে হবে না।
আইন এখানে চারটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।
প্রথম সময়সীমা : ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন
এটি হলো Early Return। যদি করদাতা খুব দ্রুত রিটার্ন জমা দেন, তাহলে সরকার তাকে উৎসাহ হিসেবে কর প্রণোদনা দেয়।
সুবিধা : পরিশোধযোগ্য করের ৫% অথবা সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা (যেটি কম হবে) কর প্রণোদনা পাবেন।
উদাহরণ ধরা যাক, কর পরিশোধযোগ্য = ২,০০,০০০ টাকা ৫% = ১০,০০০ টাকা
সর্বোচ্চ সীমা = ২৫,০০০ টাকা অতএব করদাতা পাবেন ১০,০০০ টাকা কর প্রণোদনা।
আরেকটি উদাহরণ কর = ৮,০০,০০০ টাকা, ৫% = ৪০,০০০ টাকা কিন্তু আইন বলছে সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা। অতএব তিনি পাবেন ২৫,০০০ টাকা।
মনে রাখুন
আগে রিটার্ন = Tax Incentive
দ্বিতীয় সময়সীমা : ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর
এটাই হচ্ছে Normal Due Date। এই সময়ে রিটার্ন দিলে
• কোনো Bonus নেই
• কোনো অতিরিক্ত করও নেই।
অর্থাৎ, Neither Reward nor Penalty.
উদাহরণ : রিটার্ন ২০ নভেম্বর জমা দিলেন। কোনো Incentive নেই। কোনো অতিরিক্ত করও নেই।
মূল থিম : Normal Filing Period
তৃতীয় সময়সীমা : ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ
এখন আপনি নির্ধারিত সময় অতিক্রম করেছেন। এটি Late Return। ফলে অতিরিক্ত কর দিতে হবে।
অতিরিক্ত কর
পরিশোধযোগ্য করের ২% অথবা ৩,০০০ টাকা (যেটি বেশি) অতিরিক্ত কর দিতে হবে।
উদাহরণ কর = ১,০০,০০০ টাকা
২% = ২,০০০ টাকা
ন্যূনতম = ৩,০০০ টাকা অতএব দিতে হবে ৩,০০০ টাকা।
আরেকটি উদাহরণ, কর = ৫,০০,০০০ টাকা
২% = ১০,০০০ টাকা, এটি ৩,০০০ টাকার বেশি। অতএব দিতে হবে ১০,০০০ টাকা।
মনে রাখুন Late Return = Additional Tax
চতুর্থ সময়সীমা
১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন এটি আরও দেরিতে রিটার্ন দাখিল। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর বেড়ে যায়।
অতিরিক্ত কর
পরিশোধযোগ্য করের ৫% অথবা ৫,০০০ টাকা (যেটি বেশি) অতিরিক্ত কর দিতে হবে।
উদাহরণ
কর = ৫০,০০০ টাকা, ৫% = ২,৫০০ টাকা কিন্তু ন্যূনতম ৫,০০০ টাকা। অতএব অতিরিক্ত কর ৫,০০০ টাকা।
আরেকটি উদাহরণ, কর = ৩,০০,০০০ টাকা, ৫% = ১৫,০০০ টাকা অতএব অতিরিক্ত কর ১৫,০০০ টাকা।
মূল থিম যত বেশি দেরি হবে, তত বেশি অতিরিক্ত কর।
চারটি সময়সীমা এক নজরে
রিটার্ন দাখিলের সময় ফলাফল
১ জুলাই–৩০ সেপ্টেম্বর ৫% (সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা) কর প্রণোদনা
১ অক্টোবর–৩১ ডিসেম্বর কোনো প্রণোদনা বা অতিরিক্ত কর নয়
১ জানুয়ারি–৩১ মার্চ ২% অথবা ন্যূনতম ৩,০০০ টাকা অতিরিক্ত কর
১ এপ্রিল–৩০ জুন ৫% অথবা ন্যূনতম ৫,০০০ টাকা অতিরিক্ত কর
Remember :
✅ Early Return → Incentive
✅ Normal Return → Nothing
✅ Late Return → ২%
✅ Very Late Return → ৫%
© Copy Post