10/05/2025
প্রচলিত আইনে ইভ টিজিং কি ধরনের অপরাধ এবং এর শাস্তির বিধান পেনাল কোড ১৮৬০।
Penal code 1860 (509),(294),(354).
বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনে ইভ টিজিং এর শাস্তির বিধান আছে।
এই অসভ্য অপরাধের বিভিন্ন শাস্তি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা।
দন্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৫০৯ ধারায় ইভটিজিং সম্পর্কে বলা হয়েছে- এই ধারা অনুযায়ী যদি কেউ অপরাধ করে এবং তা প্রমাণিত হয় তবে সেই ব্যক্তি এক (১) বৎসর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয় দন্ডেই দণ্ডিত হতে পারেন।
একই আইনের ২৯৪ ধারা অনুযায়ী যদি কেউ এই অপরাধ করে, তাহলে সেই ব্যক্তি তিন (৩) মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হবেন।
একই আইনের ৩৫৪ ধারায় বলা হয়েছে-যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারীর শালীনতা নষ্ট করার অভিপ্রায়ে বা শালীনতা নষ্ট হতে পারে জেনেও তাকে আক্রমণ করে বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে তাহলে সে ব্যক্তি ২ বৎসর পর্যন্ত যে কোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে বা জরিমানাদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশের ৭৫ ও ৭৬ ধারায় ইভটিজিং বা উত্যক্তার বিষয়ে বলা হয়েছে- ৭৫ ধারা অনুযায়ী সমাজে অশালীন বা উচ্ছৃঙ্খল আচরণের শাস্তি হিসেবে ৩ মাস মেয়াদ পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।’ এবং ৭৬ ধারা অনুযায়ী শাস্তি ১ বৎসর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদণ্ডে অথবা ২ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১০ ধারা অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তি অবৈধভাবে তার যৌন কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে তার শরীরের যে কোন অঙ্গ বা কোন বস্তু দ্বারা কোন নারী বা শিশুর যৌন অঙ্গ বা অন্য কোন অঙ্গ স্পর্শ করেন বা কোন নারীর শ্লীলতাহানি করেন তা হলে তার এই কাজ হবে যৌন পীড়ন এবং এর জন্য উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ (১০) বছর কিন্তু সর্ব নিম্ন/অন্যুন তিন (৩) বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন৷
ইভটিজিং প্রতিরোধে
ধর্মীয় অনুশাসন ও সামাজিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করতে হবে,
পরিবার থেকে শিখাতে হবে পর্দা করা কেন জরুরী,
পর্দার বিধান আল্লাহর বিধান, র'সুলুল্লাহ স'ল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন নারী পুরুষের সমান পর্দা করতে হবে।
ইভ টিজিংকে উৎসাহিত করে এ ধরণের বক্তব্য, বিজ্ঞাপন বা নাটক সামাজিক ভাবে বয়কট করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এই বিষয়ে তৎপর এবং কার্যকরী ভুমিকায় এগিয়ে আসতে হবে।
সর্বোপরি নিজেদের সচেতন হতে হবে।