Legal Alliance

  • Home
  • Legal Alliance

Legal Alliance Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Legal Alliance, Lawyer & Law Firm, District & Session Judge's Court, Chittagong., .

24/04/2020

চাকুরী হারানো শ্রমিকের যেসব সুবিধা প্রাপ্য:

আইনে শ্রমিকদের জন্যেও বলা রয়েছে অনেক কিছু। ছাঁটাই হলে শ্রমিককে এক মাস আগে জানাতে হবে।

ঐ প্রতিষ্ঠানে প্রতি এক বছর চাকুরীর জন্য এক মাসের বেসিক বেতন পাবেন শ্রমিক।

যেমন দশ বছর চাকুরী করলে সে দশ মাসের বেসিক বেতন পাবে। ক্ষেত্র বিশেষে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক ক্ষতিপূরণও পেতে পারেন।

তবে বরখাস্ত হওয়া শ্রমিক কোন ধরনের বেতন ভাতা ছাড়াই চাকুরী হারাবেন।

কিন্তু তাকে বরখাস্তের আগে কারণ দর্শাও নোটিস করতে হবে, অন্যায়ের অভিযোগ তদন্ত করতে হবে, তদন্তে শুধু মালিকের পছন্দের ব্যক্তি নয় শ্রমিক পক্ষের ব্যক্তিও থাকতে হবে।

প্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের নিয়োগ চুক্তির উপর নির্ভর করে তিনি কি সুবিধা পাবেন।
সেই সাথে শ্রমিককে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। এরপর যদি সে দোষী সাব্যস্ত হয় তবেই তাকে বরখাস্ত করা যাবে।

চাকুরীর অবসান বা টার্মিনেশান হলে শ্রমিককে অন্তত চার মাস আগে জানাতে হবে।

অথবা মালিক কোন নোটিশ ছাড়াই যদি তাকে চলে যেতে বলেন তাহলে তাকে চারমাসের বেতন দিতে হবে।

বাস্তবতা কেমন?

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজের পরামর্শক আবু ইউসুফ মোল্লা বলছেন, "যেমন পোশাক খাতে বরখাস্ত না করে ছাঁটাই করা হয় বেশি। টার্মিনেশান ক্লজটাও তারা ব্যবহার করেন। তবে ছাঁটাই করার প্রবণতাই বেশি। এতে কম বেনিফিট দিতে হয়। আবার শ্রমিক এটিকে আইনত কোন চ্যালেঞ্জ করতে পারে না। আর এসব তারা আইনজীবীদের পরামর্শেই করে থাকেন।"

তিনি বলছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপত্রের বালাই নেই সেখানে মৌখিক কথাতেই চাকুরিচ্যুতি হয়।

প্রাতিষ্ঠানিক খাতে সকল প্রতিষ্ঠানই আইনি বিষয়ে পরামর্শক নিয়োগ করে থাকে।

মি. মোল্লা বলছেন, "পোশাক খাতে আজকাল তারা বরখাস্ত করার দরকার পরলে তদন্ত করে। আগের মতো এক পাক্ষিক তদন্তও হয়না। কমপ্লায়ান্সের কারণে তাদের এটা করতে হয়।"

অন্যায় হলে কোথায় যাবেন?

বাংলাদেশে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীতে সাতটি শ্রম আদালত রয়েছে।

আপনি যদি মনে করেন আপনার সাথে অন্যায় হয়েছে তাহলে সেখানে আপনি মামলা করতে পারেন।

তবে বাংলাদেশে এই আদালতগুলোতে অভিযোগ মীমাংসা হতে এতটাই সময় লাগে এবং যে পরিমাণে অর্থ ব্যয় করতে হয় তাতে শ্রমিক পর্যায়ের একজন ব্যক্তি সেখানে যাননা।

অথবা তারা এমন আদালত বিষয়ে কিছু জানেনই না। তবে শ্রমিকদের আইনি সহায়তা দেয়ার জন্য সরকারি একটি সেল রয়েছে।

কিন্তু তার কার্যক্রম বাস্তবে খুবই সীমিত।

আর প্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মী পর্যায়ে যারা আছেন তাদের জন্য বিচার পাওয়ার সুযোগ বাংলাদেশে সীমিত।

14/04/2020

সবাই কেমন আছেন?
অনেক দিন হচ্ছে আইনি বিষয়ে কোন লিখা লিখি করছি না!
আপনাদের মতামত চাই।

সবাই ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন।
দোয়া করবেন আমার জন্য।

13/05/2019

রাজশাহীর ছেলে জুবায়ের (ছদ্মনাম)। এসএসসি ও এইচএসসি—উভয় পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৫০-এর ওপরে পান। পরিবারের সবার ইচ্ছা, জুবায়েরকে উন্নত কোনো দেশে মেডিকেলে পড়ানো। কিন্তু ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পড়াশোনার যে খরচ, তা তাঁর পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই খুঁজতে থাকেন বিভিন্ন দেশের সরকারি বৃত্তির সুযোগ। চোখে পড়ে, ঢাকার একটি কনসালটেন্সি ফার্মের বিজ্ঞাপনে রাশিয়া সরকারের দেওয়া বৃত্তির সুযোগ। যোগাযোগ করেন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে। তাঁদের কথামতো ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হন জুবায়েরের বাবা। চুক্তি হয় ১০০ ও ৫০ টাকার দুটি স্ট্যাম্পে। চুক্তির শর্তানুযায়ী, জুবায়েরের বাবার প্রতিষ্ঠানটিকে তিনটি সমান কিস্তিতে টাকা পরিশোধের কথা। প্রতিষ্ঠানটি জুবায়েরকে রাশিয়ায় বৃত্তিতে পড়ার ব্যবস্থা করে দেবে। যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রদেয় টাকা কোনোরকম কর্তন ছাড়াই পরিশোধ করবে বলে স্বীকার করে দুই পক্ষই স্বাক্ষর করে। শেষ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি বৃত্তির ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়। জুবায়েরের বাবা তাঁর দেওয়া টাকা ফেরত চান। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের প্রধান বলেন, ‘আমরা চুক্তিতে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেছি। কত দিনের মধ্যে ফেরত দেব, তা কিন্তু উল্লেখ নেই।’ তাঁর মতে, এটা হতে পারে ছয় মাস, এক বছর বা যেকোনো দিন। তাঁরা তো বলেননি, পরিশোধিত পুরো টাকা তাঁরা এক কিস্তিতে পরিশোধ করবেন। তাই তাঁরা যখন যে টাকার ব্যবস্থা করবেন, জুবায়েরের বাবাকে তাই নিতে হবে। এটা কোনো সাজানো নাটক নয়। এ রকম একটি ঘটনা ঘটেছে একজন শিক্ষার্থীর জীবনে। চুক্তি করার পরও জুবায়েরের বাবার মতো অনেকেই প্রতারিত হচ্ছেন। কারণ হচ্ছে, চুক্তির ফাঁকফোকর বুঝতে না পারা। মনে রাখতে হবে, প্রতিটি পক্ষই চাইবে, যাতে চুক্তিটি তাঁর পক্ষে থাকে। যেমনটি চেয়েছে ওই ফার্ম। সে তার টাকা কখন, কত পাবে, তার উল্লেখ থাকলেও কখন, কত টাকা ফেরত দেবে, তাতে রেখে দিয়েছে ফাঁক। ফলে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কেননা একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে অনেক সময়ই সম্ভব হয় না, চুক্তির অন্তর্নিহিত প্রতারণা খুঁজে বের করা।
কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে আমরা নানা কাজে লিখিত বা মৌখিকভাবে চুক্তিতে আবদ্ধ হই। ব্যবসা-বাণিজ্য, সম্পত্তি হস্তান্তর, দান, বিনিময়, সম্পত্তি বিক্রি—এমনকি বিয়েতেও চুক্তি সম্পাদন করতে হয়। কারণ, চুক্তিই আইনত গ্রহণযোগ্য। ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ২(জ) ধারায় চুক্তির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এভাবে—আইন দ্বারা বলবেযাগ্য সম্মতিকে চুক্তি বলে। চুক্তি আইনের সংজ্ঞায় দুটি বিষয় গুরুত্ব পায়। তা হলো: আইন দ্বারা বলবেযাগ্য ও সম্মতি। চুক্তি লিখিত বা মৌখিক—উভয় রকমই হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশে প্রচলিত অনেক চুক্তিই মৌখিকভাবে সম্পাদিত হয়ে থাকে। যেমন, ক্ষুদ্র ব্যবসায় যৌথ বিনিয়োগ ও বাড়িভাড়া। চুক্তি আইনে বেশ কিছু চুক্তি লিখিত ও নিবন্ধিত হতে হবে। এ ছাড়া প্রচলিত আইনেও বেশ কিছু চুক্তি লিখিত ও নিবন্ধিত হতে হবে। কোনো কোম্পানির চুক্তি, সম্পত্তি হস্তান্তর ইত্যাদি ক্ষেত্রে অবশ্যই লিখিত হতে হবে।
আইনজীবীর পরামর্শ: সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানজীব উল আলম ঘটনার বিবরণ শুনে জানান, টাকা লেনদেন-সংক্রান্ত এ ধরনের চুক্তিতে যে ধারায় টাকা গ্রহণ করবে, তাকে ঠিক সেভাবেই টাকা ফেরত দিতে হবে।
আর প্রতিষ্ঠানটি সময় নিয়ে প্রতারণা করেছে বলে আমি মনে করি। কোনো চুক্তিতে যদি উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোনো পক্ষ প্রতারণার আশ্রয় নেয়, তাহলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। চুক্তিতে কেউ যদি প্রতারণার আশ্রয় নেন, তাহলে ওই ব্যক্তি বা পক্ষের বিরুদ্ধে থানায় প্রাথমিক ডায়েরি দায়ের করতে হবে। থানার তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনা তদন্ত করে প্রতারণার সত্যতা পেলে অভিযোগপত্র দাখিল করবেন আদালতে। আর সে ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় অভিযুক্ত হবেন ওই প্রতারক। মনে রাখতে হবে, যখন কোনো চুক্তি করা হয়, তার ধারা বা শর্ত উভয় পক্ষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য কি না। আর যদি এর বিচ্যুতি ঘটে, তা অবশ্যই চুক্তিতে তুলে ধরতে হবে।
আর চুক্তি করে যদি কেউ ভঙ্গ করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন। আদালত প্রমাণ-সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবেন। সে ক্ষেত্রে মামলা পরিচালনার ব্যয়ও অভিযুক্তের কাছ থেকে আদালত আদায় করে দিতে পারেন। যদিও চুক্তি লিখিত ও মৌখিক উভয়ই হতে পারে। তবে লিখিত চুক্তি হওয়াটাই ভালো। কারণ, মৌখিক চুক্তি প্রমাণ করা কষ্টসাধ্য। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, ভূমি-সংক্রান্ত চুক্তি করলে অবশ্যই নিবন্ধন করতে হবে। তা না হলে আইনে আপনি সহযোগিতা পাবেন না।
সর্বোপরি চুক্তি করার সময় চুক্তির খসড়াটা ভালো কোনো আইনজীবীকে দেখিয়ে, খুঁটিনাটি দিক যাচাই করে নিলে প্রতারণা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

11/05/2019

মানহানির মামলা কীভাবে করবেন ?

ধরুন, কোনো ব্যক্তি আপনাকে নিয়ে লোকজনের কাছে আজেবাজে মন্তব্য করছেবা কুৎসা রটাচ্ছে। এতে আপনি মানহানির শিকার হলেন। এখন ভাবছেন, আপনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু কীভাবে আইনি প্রতিকার পাবেন, তা জানেন না।এ ক্ষেত্রে কিছু বিষয় লক্ষ্যণীয়।

মানহানির অভিযোগ এনে ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা বা মোকদ্দমা করা যায়। ফৌজদারি আদালতে মানহানির মামলা করার ক্ষেত্রে অভিযোগ দায়ের করতে হয়। সে অভিযোগ শুনে আদালত অভিযোগ থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে সমন জারি করতে পারেন। তবে মানহানির মামলায় সরাসরি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় না। সমন দেওয়ার পর যদি কোনো ব্যক্তি আদালতে হাজির না হন, সে ক্ষেত্রে বিচারক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন।

দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় মানহানি কিসে হবে আর কিসে হবে না,তা বিস্তারিত বলা আছে। এ ধারা অনুসারে যে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বা এমন হবে জেনেও উদ্দেশ্যমূলক শব্দাবলি বা চিহ্নাদি বা দৃশ্যমান প্রতীকের সাহায্যে কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে এমনভাবে কোনো নিন্দা প্রণয়ন বা প্রকাশ করে, তাহলে ওই ব্যক্তির মানহানি করেছে বলে ধরা হবে। এমনকি মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে বললেও তা মানহানি হবে। মৃত ব্যক্তির আত্মীয়স্বজন মানহানির অভিযোগ আনতে পারবেন। আইনে এমন কিছু ব্যতিক্রম অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে, যখন কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির নামে মানহানিকর কিছু বললে, লিখলে বা প্রচার করলেও মানহানি হবে না। যেমন:

১. জনগণের কল্যাণে কারও প্রতি সত্য দোষারোপ করলে মানহানি হবে না।

২. সরকারি কর্মচারীর সরকারি আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করলে তা মানহানির শামিল হবে না।

৩. সরকারি বিষয়-সংশ্লিষ্ট প্রশ্নে কোনো ব্যক্তির আচরণ নিয়ে মত প্রকাশ করলে মানহানি নয়।

৪. আদালতসমূহের কার্যবিবরণী প্রতিবেদন প্রকাশ করা মানহানির অন্তর্ভুক্ত হবে না।

৫. যেকোনো জনসমস্যা সম্পর্কে ও কোনো ব্যক্তির আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা মানহানির শামিল নয়।

৬. আদালতে সিদ্ধান্তকৃত মামলার দোষ, গুণ বা সাক্ষীদের সম্পর্কে বা অন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আচরণ সম্পর্কে অভিমত মানহানির পর্যায়ে পড়বে না।

৭. গণ-অনুষ্ঠানের অনুষ্ঠানাদি সম্পর্কে কোনো মতামত দেওয়া মানহানি নয়।

৮. কর্তৃত্বসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে সৎ বিশ্বাসে কারো সম্পর্কে অভিযোগ করা হলে সেটিও মানহানি হবে না। যেমন: পুলিশের কাছে কারো ব্যাপারে সৎ বিশ্বাসে অভিযোগ।

৯. কোনো ব্যক্তি কর্তৃক তার বা অন্য কারো স্বার্থ রক্ষার্থে দোষারোপ করা মানহানি নয়।

১০. জনকল্যাণার্থে সতর্কতা প্রদানের উদ্দেশ্যে কারো সম্পর্কে কিছু বলা হলে মানহানি হবে না।

দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় মানহানির শাস্তি বর্ণনায় বলা হয়েছে,এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়বিধ দণ্ড হতে পারে।

অন্যদিকে দণ্ডবিধির ৫০১ ও ৫০২ ধারা অনুসারে, মানহানিকর বলে পরিচিত বিষয় মুদ্রণ বা খোদাইকরণ সম্পর্কে এবং এর শাস্তি বর্ণিত হয়েছে।

09/05/2019

পারিবারিক আদালতে কখন যাবেন?

সংসারে অশান্তি হলে খুব কাছের কারো সঙ্গে বসে আলাপ–আলোচনা করে সেটা মিটিয়ে ফেলা যায়। আর সবশেষে পারিবারিক আদালতের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
কোনো বিষয়ে পারিবারিক বিরোধ দেখা দিয়েছে? ভাবছেন কী করবেন। কোনোভাবেই নিষ্পত্তি করতে পারছেন না। যদি একেবারেই কোনোভাবে বিরোধটি নিষ্পত্তি করতে না পারেন তাহলে আপনি পারিবারিক আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন। পারিবারিক কোনো বিরোধ নিষ্পত্তির জন্যই দেশে পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তবে পারিবারিক বিরোধ বলতে আবার সব ধরনের বিরোধকে বোঝাবে না। পারিবারিক আদালতে মূলত পাঁচটি পারিবারিক সমস্যার নিষ্পত্তি হয়। প্রতিটি জেলায় সহকারী জজ আদালত পারিবারিক আদালত হিসেবে গণ্য হয়। আবার কিছু এলাকায় সহকারী জজ আদালতকে পারিবারিক আদালত হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

যে বিরোধগুলো নিষ্পত্তি হবে

বিবাহবিচ্ছেদ: বিবাহবিচ্ছেদের জন্য সব সময় আদালতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। যে ক্ষেত্রে কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘরে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা না থাকলে কেবল স্ত্রী আদালতে যেতে পারে। এ ছাড়া স্ত্রী যদি স্বামীকে ‘খোলা’ বা ‘মোবারাত’ বিচ্ছেদে সম্মত করাতে পারেন, সে ক্ষেত্রেও আদালতে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার: কোনো কারণে দাম্পত্য জীবন ব্যাহত হলে এবং সংসারে ফেরত না আসতে পারলে স্বামী বা স্ত্রী যে কেউ পারিবারিক আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন।

মোহরানা: স্বামীর পরিশোধ না করা দেনমোহরের জন্য স্ত্রী মামলা করতে পারেন। তাৎক্ষণিক মোহরানার জন্য যে তারিখে তা দাবি করা হয় এবং অগ্রাহ্য করা হয়, সে তারিখ থেকে তিন বছরের মধ্যে এবং বিলম্বে মোহরানার জন্য বিচ্ছেদ ঘটার তারিখ থেকে তিন বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে।

ভরণপোষণ: স্বামী যদি স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে না চান, তাহলে স্ত্রী যেদিন থেকে ভরণপোষণের টাকা দাবি করবেন, সেদিন থেকে তিন বছরের মধ্যে পারিবারিক আদালতে মামলা করতে হবে।

সন্তানের অভিভাবকত্ব: সন্তানের অভিভাবকত্ব এবং হেফাজত নিয়ে কোনো বিরোধ হলে পারিবারিক আদালতে যাওয়া যেতে পারে।

কীভাবে আশ্রয় নেবেন

উভয় পক্ষ যেখানে বসবাস করে বা সর্বশেষ বসবাস করেছে এবং যে পারিবারিক আদালতের স্থানীয় সীমার মধ্যে সমস্যা উদ্ভূত হয়েছে, সেই আদালতে মামলা করতে হবে। তবে বিবাহবিচ্ছেদ, মোহরানা ও ভরণপোষণের ক্ষেত্রে যেখানে স্ত্রী বসবাস করেন, সেই এলাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে পারবেন। দেনমোহর বা ভরণপোষণের পরিমাণ যতই হোক, মামলা করা যাবে। পারিবারিক আদালতে আইন চর্চা করেন এমন একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আবেদন করতে হবে। পারিবারিক আদালতে আশ্রয় নিতে হলে খুব বেশি কোর্ট ফি দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার যারা পারিবারিক বিষয়ে কাজ করে তাদের আইনজীবীর মাধ্যমেও আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে। পারিবারিক আদালতের ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিলের বিধান থাকলেও বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। এ ছাড়া পাঁচ হাজার টাকার কম মোহরানার ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল চলবে না। কোনো আবেদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আদালত বাদী ও বিবাদীকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেবেন। আদালত প্রয়োজনে রুদ্ধদ্বার কক্ষেও বিচারের ব্যবস্থা করতে পারেন।

আছে আপস মীমাংসার সুযোগ

পারিবারিক আদালতের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এখানে নিজেদের মধ্যে আপস মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। একবার মামলার বিচার শুরু হওয়ার আগে এক দফা এবং পরবর্তী সময়ে রায় ঘোষণার আগে দ্বিতীয় দফায় আপসের সুযোগ রয়েছে। তাই পারিবারিক বিষয়ে আদালতে গেলেও নিজেদের মধ্যে আপস মীমাংসা করে নেওয়াই উচিত। আবার আপসমূলে আদালতের ডিক্রি নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

06/05/2019

পাওনা টাকা আদায়ের আইনগত পদ্ধতি এবং টাকা ধার দেওয়ার সময় যা করবেন

টাকা ধার দেওয়ার সময় তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন যে নির্দিষ্ট একটি তারিখের মধ্যেই পরিশোধ করে দেবেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে টাকা ফেরত না দেওয়ায় আপনার পাওনা টাকা ফেরত দিতে তাঁকে অনুরোধ করেন। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে আপনার টাকা আর ফেরত দেননি। আপনি ভাবছেন কীভাবে আদায় করবেন পাওনা টাকা। আপনি কি আইনের আশ্রয় নিতে পারবেন? পারলেও কীভাবে?

যেভাবে টাকা উদ্ধার করা যেতে পারেঃ-

১) উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ মিমাংসার মাধ্যমে;

২) ফৌজদারী আদালতে গচ্ছিত চেকের বিরুদ্ধে মামলা করে;

৩) দেওয়ানী আদালতে মানি স্যুট এর মাধ্যমে;

আপোষ মিমাংসার মাধ্যমে টাকা উদ্ধারঃ-

পাওনাদার দেনাদারের মধ্যে আপোষ মিমাংসার মাধ্যমে টাকা উদ্ধার করা সম্ভব। এক্ষেত্রে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিগণের মধ্যস্থতায় এই আপোষ মিমাংসা হতে পারে।

ফৌজদারী আদালতে চেকের মামলার মাধ্যমে টাকা উদ্ধারঃ-

ব্যবসায়িক লেনেদেন পরিচালনা কালে বিক্রেতা বা ঋণদাতা ক্রেতা বা ঋণ গ্রহীতার নিজের হিসাবের নিজ স্বাক্ষরিত চেক জামানত হিসেবে রাখতে পারেন বা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্রেতা বা ঋণ গ্রহীতা গৃহীত টাকা পরিশোধে জন্য চেক প্রদান করে থাকেন। এক্ষেত্রে চেকের ৬ (ছয়) মাস মেয়াদ থাকাকালীন সময়ে ঋণ দাতা বা পন্য বিক্রেতা প্রদেয় চেকটি নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট এ্যাক্ট, ১৮৮১ অনুসারে নিম্নলিখিত উপায়ে টাকা উদ্ধার করতে পারেনঃ-

ক) চেকের মেয়াদকালীন সময়ে চেকটি নগদায়নের জন্য ব্যাংক উপস্থাপন করবেন;

খ) চেকটি ডিসঅনার হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে আইনজীবির মাধ্যমে ঋণগ্রহীতা বা চেক দাতার বরাবরে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করতে হবে। তবে একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, চেক তিন বার ডিসঅনার করতে হবে। এটা সঠিক নয়। একবার ডিসঅনার করলেই লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করা যাবে।

গ) লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণের ৬০ দিনের মধ্যে মামলা করতে হবে। তবে একটি বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন ব্যক্তি ও কোম্পানীর ক্ষেত্রে চেকের মামলা ভিন্ন উপায়ে দায়ের করতে হবে। অন্যথায়, বিজ্ঞ আদালত বিচারের পর্যায়ে মামলা আইনগত ত্রুটির কারণে খারিজ করে দিতে পারে।

দেওয়ানী আদালতে মানি স্যুট এর মাধ্যমেঃ-

নেগোশিয়েব ইন্সট্রুমেন্ট ব্যতীত ব্যবসায়ী লেনদেনের সময় ক্রেতার বা ঋণ গ্রহীতার স্বাক্ষরিত স্বাক্ষরিত অন্যান্য কাগজপত্র দাখিলের মাধ্যমে দেওয়ানী আদালতে টাকা আদায়ের মামলা করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে পাওনাদার পাওনা টাকার উপর ২.৫% হারে এডভেলোরেম তৎসহ ১৫% ভ্যাট কোর্ট ফি প্রদান করে মামলা করতে পারেন। এক্ষেত্রে কোর্ট ফি সর্বদা অফেরতযোগ্য বটে।

টাকা ধার দেওয়ার সময় মনে রাখবেন

প্রয়োজনে যদি টাকা ধার দিতেই হয়, তাহলে যতই আপনজন হোক না কেন, তাঁর সঙ্গে আপনি একটি লিখিত চুক্তি করে নিন। ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি চুক্তি করে নিন এবং এই চুক্তিতে কী কারণে কত টাকা ধার দিলেন, তা স্পস্ট করে উল্লেখ করতে হবে। কবে অপর পক্ষ টাকা ফেরত দেবে এবং পুরোটা একসঙ্গে না কিস্তিতে পরিশোধ করবে, তা উল্লেখ করতে হবে। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দেয়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ থাকবে—বিষয়টা স্ট্যাম্প কাগজে উল্লেখ করা দরকার। মনে রাখতে হবে, চুক্তিপত্রটি যেন আইন অনুযায়ী সম্পাদিত হয়। এ ছাড়া চুক্তিটি নোটারি বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা সত্যায়িত করে নিতে হবে। চুক্তিপত্র সম্পাদনের সময় সাক্ষী হিসেবে রাখুন কয়েকজনকে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়, তাহলেও চুক্তিপত্র করে নিতে হবে। চুক্তিপত্র ছাড়া আইনের অশ্রয় গ্রহণ করা অনেকটা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।

05/05/2019

মিথ্যা যৌতুক মামলায় পুরুষের করণীয়

দাম্পত্য কলহের কারণে যৌতুক মামলা থেকে শুরু করে খুনের ঘটনা ঘটছে অহরহ। তবে বেশিরভাগ নারীরা সংসারে স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হলেই যৌতুকের মামলা দিয়ে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে মিথ্যা মামলা দেয়ার কারণে পুরুষরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন।

সম্প্রতি নারী ও শিশু নির্যাতনের মিথ্যা মামলা অনেক বেড়ে গেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে ভুয়া ও মিথ্যা মামলা দায়েরের ফলে সামাজিকভাবে অপদস্থ হওয়া ছাড়াও মামলার খরচ জোগাতে নিঃস্ব হচ্ছে অনেকেই। মিথ্যা মামলায় যে কোনো পুরুষ হয়রানির শিকার যাতে না হয় সে জন্য ‘যৌতুক নিরোধ আইন-২০১৮’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এটা পুরুষদের জন্য সুসংবাদ।

যৌতুকের মিথ্যা মামলায় শাস্তির বিধান

‘মিথ্যা মামলাসংক্রান্ত শাস্তির ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের অভিপ্রায়ে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের অধীনে মামলা বা অভিযোগ করার জন্য ন্যায্য বা আইনানুগ কারণ নেই জেনেও মামলা বা অভিযোগ করেন বা করান তাহলে তিনি বা তারা অনধিক ৫ বছর মেয়াদের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

আসুন জেনে নেই মিথ্যা যৌতুক মামলা থেকে বাঁচতে কী করবেন?

এজাহারের কপি সংগ্রহ

মিথ্যা মামলা হলে এজাহারের কপিটি সংগ্রহের চেষ্টা করুন। একজন ভালো আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করুন। তিনি আপনাকে একটি ভালো পরামর্শ দেবেন।

আত্মসমর্পণ

নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে পারেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগটির সত্যতা না পেলে আপনাকে নির্দোষ দেখিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবেন।

চার্জশিট বা অভিযোগপত্র

মিথ্যা মামলায় চার্জশিট বা অভিযোগপত্র হয়ে গেলে নিম্ন আদালতে জামিন চাইতে হবে। জামিন না-হলে পর্যায়ক্রমে উচ্চ আদালতে আবেদন করতে হবে।

অব্যাহতি

আপনি মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য আবেদন করতে পারেন। অব্যাহতির আবেদন নাকচ হলে উচ্চ আদালতে প্রতিকার চাইতে পারেন।

গ্রেফতার

অনেক সময় কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুলিশ এসে আপনাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। এক্ষেত্রে সাধারণ গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। তাই আপনার আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করতে হবে। আদালতে জামিন আবেদন

যদি থানায় মামলা না হয়ে আদালতে মামলা (সিআর) হয় তাহলে আদালত সমন দিতে পারেন কিংবা গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করতে পারেন। এ ক্ষেত্রেও আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে হবে। ক্ষেত্র বিশেষে হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন চাইতে পারেন। পাল্টা মামলা

দণ্ডবিধির ২১১ ধারা অনুযায়ী মিথ্যা মামলা করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আপনি নির্দোষ প্রমাণিত হলে মিথ্যা অভিযোগকারী বা মামলা দায়েরকারীর বিরুদ্ধে আপনি পাল্টা মামলা করতে পারেন।

ক্ষতিপূরণ

মিথ্যা নালিশ আনয়নকারী সব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি ২৫০ ধারা অনুযায়ী মিথ্যা মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ করা যায়। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা আমলযোগ্য নয় এ রকম কোনো মামলায় মিথ্যা প্রতিবেদন দিলে তার বিরুদ্ধেও এ ধারা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ প্রদান করা যায়।

নজরুল ইসলাম চৌধুরী
এডভোকেট
মোবাইলঃ- ০১৬১৪-৩৩৫৬৫৬

04/05/2019

ডিভোর্স যেভাবে আপনাকে আইনগত সুরক্ষা দিবে!

ডিভোর্স বা তালাক সৃষ্টিকর্তার নিকট যেমন নিকৃষ্টতম বৈধ কাজ, তেমনি আমাদের সমাজের মানুষের নিকটেও গর্হিত একটি কাজ। আমাদের সমাজে তালাকপ্রাপ্ত দম্পতি বিশেষ করে তালাকপ্রাপ্তা নারীদেরকে আজও বাঁকা চোখে দেখা হয়। ডিভোর্স বা তালাক যদিও আমাদের সমাজে নিন্দনীয় একটি বিষয়, তথাপিও আমাদের সমাজে ডিভোর্সের সংখ্যা দিন দিন বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমানে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি নিয়েও অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে অর্থাৎ অতি তুচ্ছ এবং নগণ্য কারণেও বর্তমান সমাজে অহরহ ডিভোর্স হচ্ছে। যাই হোক, ডিভোর্স নিন্দনীয় একটি কাজ হলেও পুরুষের জন্য ডিভোর্স আইনগত সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করে। আজকাল হরহামেশাই এটা ঘটতে দেখা যায় যে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় দুজন আলাদা আলাদাভাবে বসবাস করতে থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে আলাদাভাবে বসবাস করা সত্ত্বেও কোন পক্ষই ঘর- সংসার করার বা বিবাহ বিচ্ছেদের মতো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন না। তাদের মধ্যে শুধুমাত্র কাগজে কলমে বৈবাহিক সম্পর্ক বিরাজমান থাকে। এতে করে আইনগতভাবে স্ত্রীরা তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও স্বামীদের ক্ষেত্রে এই আলাদা থাকাটা কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।

একটু ব্যাখ্যা করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। ২০০০ সনের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন নারীদেরকে কিছুটা সুরক্ষা দিলেও পুরুষদের ক্ষেত্রে এই আইনটি কালো আইন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বর্তমানে অনেক নারী পুরুষকে ঘায়েল করার জন্য এই আইনটিকে মারাত্মক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এর সাথে আরও একটি আইন আছে সেটি হল যৌতুক আইন। এই দুইটি আইনের অপব্যবহার করে অনেক নারী পুরুষকে হয়রানি করতে পারেন। আইনজীবী হওয়ার সুবাদে বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখেছি যে, এই দুই আইনের অধীনে যে মামলা হয় তার অধিকাংশই মিথ্যা মামলা এবং শুধুমাত্র পুরুষকে হয়রানি বা শায়েস্তা করার উদ্দেশ্যেই এই আইন দুটিতে মামলা করা হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় তারা দুজনে আলাদা আলাদাভাবে বসবাস করা কালীন স্ত্রী স্বামীকে শিক্ষা দেয়ার জন্য যৌতুকের মিথ্যা কাহিনী তৈরি করে যৌতুক আইন ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করে থাকে। ফলে স্বামীকে মিথ্যা মামলায় নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। এছাড়া পারিবারিক আদালতে দেনমোহর ও ভরণপোষণ এর মামলা করে স্বামীকে আর্থিকভাবে দুর্বল করার একটি প্রবণতা দেখা যায়। এসব মামলায় ফেঁসে গিয়ে একজন পুরুষ হতাশাপূর্ণ জীবন-যাপন করতে থাকে। এসব মিথ্যা মামলার হাত থেকে ডিভোর্স বা বিবাহ বিচ্ছেদ একজন পুরুষকে সুরক্ষা দিতে পারে।

বিষয়টি একটি উদাহরণের মাধ্যমে আরেকটু পরিষ্কার করে নেয়া যাক। কাদের এবং সেলিনা এক বছর দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করার পর তুচ্ছ কারণে তাদের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। এই মনোমালিন্যের জের ধরে সেলিনা কাদেরের ঘর ছেড়ে তার বাবার বাসায় চলে যায়। কাদের এবং সেলিনা আলাদাভাবে বসবাস করতে শুরু করে। অনেক চেষ্টা-তদবির করেও একজন আরেকজনের সাথে ঘর সংসার করতে রাজি নয় কিংবা কেউই প্রথমে ডিভোর্স দিতে রাজি নয়। কাদের ভাবে ডিভোর্স আমি দিব কেন পারলে সেলিনা আমাকে ডিভোর্স দিক। অন্যদিকে সেলিনা ভাবে আমি ডিভোর্স দিব না। ডিভোর্সের পদক্ষেপটা কাদেরই নিক। এভাবে দিন যায়, মাস যায়, এমনকি বছরও পার হয়ে যায় কিন্তু তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ টা আর হয় না। একদিন সেলিনা কিছু মানুষের শলাপরামর্শে কাদের কে শায়েস্তা করার জন্য কাদেরের বিরুদ্ধে আদালতে যৌতুকের মামলা ঠুকে দেয় এবং পাশাপাশি দেনমোহর ও ভরণপোষণের জন্য পারিবারিক আদালতে কাদেরের বিরুদ্ধে একটি মোকদ্দমা দায়ের করে। যৌতুকের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা বের হলে পুলিশ কাদেরকে গ্রেফতারের জন্য কাদেরের গাড়িতে হানা দেয়। কাদের পুলিশের ভয়ে রাতে ঘরে শুতে পারে না। চাকরীতে যেতে পারে না। এভাবে কাদের নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়।

আমরা কেউই সংসার ভাঙ্গার পক্ষে নয়। কিন্তু যদি অনেক চেষ্টা, আলাপ-আলোচনা ইত্যাদির মাধ্যমে কোন বৈবাহিক সম্পর্ক রক্ষা করা সম্ভব না হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে ডিভোর্স বা তালাক ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় থাকে না।উপরোক্ত উদাহরণের ক্ষেত্রে কাদের সেলিনাকে ঘরে ফিরিয়ে আনার অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পরে নিশ্চিন্তে বসে না থেকে যদি সেলিনাকে ডিভোর্স দিয়ে দিত, তাহলে সেলিনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বা যৌতুক আইনে কাদেরের বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য মামলা করতে পারত না। কারণ বিয়ে বলবৎ না থাকলে যৌতুক দাবি করার প্রশ্ন ওঠে না। তাই যৌতুকের মামলা ও করা যায় না। অপরদিকে তালাক দেওয়ার পরে আইন মোতাবেক সেলিনা শুধুমাত্র দেনমোহর ও ইদ্দতকালীন সময়ের ভরণপোষণের টাকা পেতে হকদার। কাজেই সংসার করা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে ডিভোর্স বা তালাক দিলে একজন পুরুষ এসব মিথ্যা মামলা থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন

03/05/2019

নতুন কোম্পানি গঠনের নিয়ম

প্রথমেই জেনে নেই প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি খোলার জন্য তাদের কি কি লাগবেঃ

কমপক্ষে ২ জন উদ্যোক্তা সদস্য
ব্যবসার ধরন নির্বাচন
স্থায়ী অফিস সংগ্রহ

কোন কোম্পানি নিবন্ধনের প্রথম ধাপ হল কোম্পানির নামের নিবন্ধন

যে কোম্পানির জন্য নিবন্ধন করতে চাচ্ছেন সেই কোম্পানির প্রস্তাবিত নামে পূর্বে কোন প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হয়েছে কিনা তা খুঁজে দেখাই এর উদ্দেশ্য, যাতে একই নামে একাধিক কোম্পানির নিবন্ধন না হয়

কোম্পানির নাম নিবন্ধন করার জন্য আপনাকে প্রথমে http://app.roc.gov.bd:7781 এই ওয়েবসাইট থেকে দেখতে হবে আপনার পছন্দের নামটি এখনো খালি আছে কিনা ?

যদি আপনার পছন্দের নামটি অন্য কেউ এখনো নিবন্ধন না করে থাকে তবে আপনাকে জয়েনস্টক কোম্পানিজ এন্ড ফার্মস অফিস কাছে নির্ধারিত ফি সহ নামের রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করতে হবে

জয়েনস্টক যদি আপনার প্রদত্ত নামটিতে কোন প্রকার আইনি সমস্যা না পায় তবে তারা ৫-১০ দিনের মধ্যে আপনাকে নামের ছাড়পত্র প্রদান করবেন কোন কারণে ছাড়পত্র না পেলে নতুন নাম দিয়ে আবার নিবন্ধন করতে পারেন এবার আপনাকে কিছু গুরুত্তপূর্ণ কাজ করতে হবে তা হলো আপনার কোম্পানির জন্য মেমোরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন এবং আর্টিকেল অব এসোসিয়েশন বানাতে হবে

মেমোরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন হল কোম্পানির লক্ষ ও কার্যাবলী সম্পর্কে বর্ণান , এত থাকে ব্যবাসার নাম, ব্যবসার ধরন, ব্যবসার লক্ষ, অনুমোধিত ও পরিশোধিত মূলধনের পরিমান ইত্যাদি বিষয়গুলো উল্লেখ থাকে

আর্টিকেল অব এসোসিয়েশন কোম্পানির পরিচালনার নিয়মাবলী অর্থাৎ আর্টিকেল অব এসোসিয়েশনের মধ্যে থাকবে কীভাবে কোম্পানি পরিচালক পর্ষদ নির্বাচিত হবে, কোম্পানির সাধারন মিটিং এবং বিশেষ মিটিং কীভাবে কখন সম্পাদিত হবে,

কীভাবে নতুন সদস্য নেওয়া হবে, কীভাবে কোন সদস্যকে বহিষ্কার করা হবে, কীভাবে লভ্যংশ বন্টন করা হবে ইত্যাদি বিষয়গুলো আর্টিকেল অব এসোসিয়েশনে বিশদভাবে বর্ণনা করা হবে

মেমোরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন এবং আর্টিকেল অব এসোসিয়েশন আপনাকে কোম্পানি বিষয়ক অভিজ্ঞ এরকম একজন আইনজীবীর মাধ্যমে করাতে হবে

এবার সবকিছু প্রস্তুত হবার পরে আপনাকে জয়েনস্টকের ওয়েবসাইট থেকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির নিবন্ধনের আবেদনপত্রটি ডাউনলোড করতে হবে এবং উক্ত আবেদনপত্রটি যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে এবং আনুসাঙ্গিক কাগজপত্রগুলো প্রস্তুত করতে হবে

নিবন্ধনের জন্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলোঃ

মেমোরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন ও আর্টিকেল অব এসোসিয়েশন, মূলকপি ও অতিরিক্ত দুই কপি
নামের ছাড়পত্রের অনুমতির কপি

কোম্পানি নিবন্ধনের ঘোষণাপত্র

পরিচালক হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের তালিকা
পরিচালকের সম্মতিপত্র

এবার পূরনকৃত আবেদনপত্র এবং আনুসাঙ্গিক কাগজপত্রগুলো নিয়ে জয়েনস্টক এর অফিসে জমা দিতে হবে, সকল কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরে যাচাই বাচাই করার পরে সেখান থেকে আপনাকে কোম্পানির লাইসেন্সের জন্য সুনির্দিষ্ট ফি ধার্য করে দিবে ।

সাধারণত কোম্পানির অনুমোদিত মূলধনের উপর ভিত্তি করে সুনির্দিষ্ট ফি ধার্য করে থাকে। আপনারা চাইলে নিচের লিঙ্ক থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি যাচাই করে দেখতে পারেন http://123.49.32.37:7781/psp/fee_calculator

এবার কোম্পানি নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় ফি নির্দিষ্ট ব্যংকে জমা দিতে হবে। সেখানে আরো কিছু আনুসাঙ্গিক কাজ আছে তা আপনাকে সম্পাদন করতে হবে

পরবর্তীতে নিবন্ধক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখবেন এবং আপনার আবেদনটি উপযুক্ত মনে হলে আরা তাদের বইতে আপনার নতুন কোম্পানির নাম তালিকাভুক্ত করবেন একইসাথে , আপনাকে কোম্পানির নিবন্ধন সার্টিফিকেট প্রদান করে থাকবেন

নিবন্ধন সার্টিফিকেট পাওয়ার পর পরই প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম আপনি শুরু করতে পারবেন

নতুন কোম্পানি গঠনের সম্পর্কে আরো প্রশ্ন থাকলে অথবা নতুন কোম্পানি গঠন করতে চাইলে ফোন করুন

নজরুল ইসলাম চৌধুরী
এডভোকেট
মোবাইলঃ- ০১৬১৪-৩৩৫৬৫৬
ধন্যবাদ ।

03/05/2019

কিভাবে কোম্পানির নাম নিবন্ধন করতে হয় ( Registrar of Joint Stock Companies)-

ব্যবসার জন্য একজন উদ্যোক্তা পাবলিক বা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি তৈরি করতে পারবেন। কোম্পানি তৈরি করে প্রথমেই কোম্পানির রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে। কোন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের বা রেজিস্ট্রেশনের প্রথম ধাপ হল কোম্পানি নিবন্ধন। নতুন প্রতিষ্ঠানের নামের ছাড়পত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) নিয়ে নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ফি সহ নির্ধারিত আবেদন ফর্মের মাধ্যমে আবেদন করবেন। উদ্যোক্তাগণকে যা করতে হবে-

বাংলাদেশে কোম্পানি নিবন্ধন দেওয়া হয় জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ এন্ড ফার্মস অফিস থেকে ।

কোম্পানি নিবন্ধন করতে চাইলে প্রথমে দেখে নিতে হবে , আপনার পছন্দের নাম আগে থেকেই অন্য কারো দ্বারা নিবন্ধিত কি না? এ জন্য আপনি এই ওয়েবসাইট থেকে নাম চেক করে নিতে পারেন ।

আপনি চাইলে অনলাইনে ও আবেদন করতে পারেন এর মাধ্যমে । অনলাইনে আবেদন ফর্ম পূরণ করে , আবেদন ফর্ম প্রিন্ট দিয়ে ১০০ টাকা সহ জয়েন্ট স্টক কম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসের অফিসের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বরাবর পাঠাতে হয়। নামের ছাড়পত্র পেতে সাধারণত এক সপ্তাহ লাগতে পারে । কোন কারণে ছাড়পত্র না পেলে নতুন নাম দিয়ে আবার নিবন্ধন করতে পারেন ।

ছাড়পত্র পেলে পুনরায় (জয়েন্ট স্টক কোম্পনিজ এন্ড ফার্মসে ) কোম্পানি আইন ১৯৯৪ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফী-কাগজপত্র ও দলিল সাবমিট করতে হবে । ( অষ্টম খন্ড)

কর কমিশন নিবন্ধন --- নিবন্ধনের জন্য এনবিয়ারের কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে।

আপনি, চাইলে এনবিআর এর সাইট থেকে ফর্ম নামিয়ে, পূরণ করে এনবিয়ার কার্যালয়ে জমা দিতে পারেন ।

ট্রেড লাইসেন্স--- ট্রেড লাইসেন্স সিটি করপোরেশন থেকে সংগ্রহ করতে হয়।

লগো নির্বাচন ও নিবন্ধন---লগো কোম্পানির প্রচার-প্রসার এবং ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তাই ভাল কোন ডিজাইনার দ্বারা পছন্দ মত লগো ডিজাইন করে এর কপি রাইট এন্ড ট্রেড মার্কের জন্য -এর রেজিস্ট্রেশন বিভাগে- এ আবেদন করতে পারেন।

অনান্য লাইসেন্স/সার্টিফিকেট ----

ব্যবসার প্রকৃতি অনুযায়ী আরো অনেক ধরণের লাইন্সের প্রয়োজন হয় , যেমন ভোগ পণ্য, রাসায়নিক পণ্য/ মেটাল এর জন্বিযএসটিআইয়ের লাইসেন্স । এর লাইসেন্স/সার্টিফিকেটর ফী নির্ভর করে প্রডাক্টের উপর (বিস্তারিত )

এছাড়া, হোটেল/প্রেস/ ট্যুর ইত্যাদিতে ব্যবসাতে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন প্রয়োজন।
এ ব্যপারে যেকোন সহযোগীতা পেতেঃ ইনবক্স করুন।
কেঊ কম্পানী করতে চাইলে যোগাযোগ করুন।

নজরুল ইসলাম চৌধুরী
এডভোকেট
মোবাইলঃ- ০১৬১৪-৩৩৫৬৫৬

02/05/2019

প্রতারণার প্রতিকার চাইতে পারেন দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায়

প্রায় সময়ই ৪২০ বা ‘ফোর টুয়েন্টি’ বলে অনেককে অপবাদ দিতে দেখা যায়। কিন্তু এটি এসেছে আইনের এক ধারা থেকে। দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা। এ ধারায় প্রতারণা এবং প্রতারণার শাস্তি নিয়ে বলা হয়েছে।

কী করলে হবে প্রতারণা

সাদামাটা অর্থে কেউ কারও সঙ্গে কোনো বিষয়ে যদি যেকোনো ধরনের মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং কোনো প্রতিশ্রুতি ভেঙে ফেলে, সেক্ষেত্রে প্রতারণা বলা হলেও আইন অনুযায়ী প্রতারণার সংজ্ঞা কিছুটা ভিন্ন। আইন অনুযায়ী যে ব্যক্তি, কাউকে ফাঁকি দিয়ে প্রতারণামূলকভাবে বা অসাধুভাবে কোনো ব্যক্তির কাছে কোনো সম্পত্তি প্রদানে বা রাখতে প্ররোচিত করে, তাহলে হবে প্রতারণা। ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারিত ব্যক্তিকে এমন কোনো কাজ করতে বা তা করা থেকে বিরত থাকতে প্ররোচিত করে। যার ফলে ব্যক্তির শরীর, মন বা সম্পত্তির ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তাহলে সেটি প্রতারণা হবে। যদিও আইনে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

প্রতারণার আবার রকমফের আছে। যেমন ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে প্রতারণা, জালিয়াতি করে প্রতারণা, মিথ্যা পরিচয় প্রদান করে প্রতারণা, বিয়ে নিয়ে প্রতারণা প্রভৃতি। আলাদা আলাদা প্রতারণার অভিযোগে আলাদা আলাদা শাস্তি নির্ধারিত আছে। সাধারণত দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় মামলা বেশি হতে দেখা যায়। এ ধারায় শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছর এবং পাশাপাশি অর্থদণ্ডেরও বিধান আছে।

আইনের আশ্রয় কীভাবে নেবেন

যেকোনো কারণে প্রতারণার শিকার হলে কিংবা চাকরির নামে কোনো প্রতারণার শিকার হলে আইনের আশ্রয় খুব সহজেই নিতে পারেন। আপনি দায়ী ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করতে পারেন। প্রতারণার পাশাপাশি বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগও আনা যায়। ক্ষেত্রবিশেষে দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন। তবে আইনের আশ্রয় নিতে চাইলে যথেষ্ট প্রমাণাদি থাকা লাগবে। যেমন কোনো লিখিত চুক্তি, কোনো রসিদ—এসব বিষয়। তাই এ দলিলগুলো সংরক্ষণ রাখা জরুরি। বিয়ের নাম করে যদি কেউ প্রতারণামূলকভাবে সংসার করে, এ ক্ষেত্রে আইনের আশ্রয় নেওয়া যাবে।

দেশ–বিদেশে চাকরির নাম করে টাকা দেওয়ার সময় টাকা লেনদেন-সংক্রান্ত চুক্তি ভঙ্গ করলেও প্রতারণার অভিযোগ আনা যাবে।

থানায় এজাহার দায়ের করে মামলা করা যায় অথবা আদালতে সরাসরি মামলা দায়ের করা যায়। এ মামলা দায়ের করতে হয় মুখ্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বা মহানগর এলাকা হলে মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। তবে ব্যবসা–সংক্রান্ত লেনদেনে প্রতারণার অভিযোগ অনেক সময় না–ও টিকতে পারে। উচ্চ আদালতের কিছু রায়ে তা বলা হয়েছে।

যা জানা দরকার

আমাদের দেশে চাকরি নিয়ে প্রতারণার ঘটনা অনেক বেশি ঘটতে দেখা যায়। তাই কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির সাক্ষাৎকারের সময় বা পরে চাকরিতে যোগদান করার কথা বললে হুট করেই চাকরিতে যোগ দেওয়া ঠিক হবে না। চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে প্রথমেই জেনে নিন ওই প্রতিষ্ঠানটি আইনগতভাবে স্বীকৃত কি না। প্রতিষ্ঠানটির যথাযথ নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স আছে কি না। বেতন-ভাতা সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানুন, চাকরির ধরন সম্পর্কে জেনে নিন। নিয়োগপত্র গ্রহণের সময় তাতে শর্তাবলি কী আছে, ভালোভাবে দেখে নিন। ব্যক্তিগত লেনদেনের ক্ষেত্রে একটা লিখিত চুক্তি করে রাখুন। যতই কাছের আত্মীয় হোক না কেন, লিখিত চুক্তি করে টাকাপয়সার লেনদেন করা উচিত। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রমাণাদি রাখা জরুরি।

01/05/2019

মিথ্যা মামলায় ফেঁসে গেলে করণীয়
মিথ্যা মামলায় ফেঁসে গেলে করণীয়
আপনি যতই নির্দোষ হন না কোন কেউ আপনার বিরুদ্ধে শত্রুতা করে মিথ্যা মামলা করলে, প্রাথমিক অবস্থায় আপনি বেশ মানসিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবেন এটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে সবাই যে ভুলটা সবচেয়ে বেশি করে তা হলো পালিয়ে যাওয়া। মিথ্যা মামলার নিরান্নব্বই ভাগই ফৌজদারি মামলা। এজন্য বেশ ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

আইন হলো ভালো নাগরিকদের আত্মরক্ষার জন্য। কিন্তু এক শ্রেণির মানুষ আইনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করতে অভ্যস্ত। আইন যেখানে মানুষকে অপরাধের হাত থেকে রক্ষা করার কথা, সেখানে আইনকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি করে নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য।

অনেক সময় দেখা যায়, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে প্রভাবশালী কিছু খারাপ লোক নানা রকম মিথ্যা মামলা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হল জমি নিয়ে মামলা। আইন অনুযায়ী, থানায় মামলা হওয়ার আগেই ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেন তদন্ত কর্মকর্তা। কিন্তু বাস্তবে বেশিভারগ ক্ষেত্রেই এটি মানা হয় না।

এখন প্রশ্ন হলোকীভাবে মিথ্যা মামলার অভিযোগ থেকে রেহাই পাবেন? মানসিকভাবে যতটা সম্ভব শান্ত থাকুন। মনে রাখতে হবে, আইনের চোখে আপনার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আপনি নিরপরাধ।

যদি আপনার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়, তাহলে এজাহারের কপিটি সংগ্রহের চেষ্টা করুন। আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করুন। নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে পারেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগটির সত্যতা না পেলে আপনাকে নির্দোষ দেখিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবেন।

চার্জশিট বা অভিযোগপত্র হয়ে গেলে, নিম্ন আদালতে জামিন চাইতে হবে। জামিন না হলে পর্যায়ক্রমে উচ্চ আদালতে আবেদন করতে হবে। আপনি মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য আবেদন করতে পারেন। অব্যাহতির আবেদন নাকচ হলে উচ্চ আদালতে প্রতিকার চাইতে পারেন।

যদি এমন হয় যে, আপনি জানতে পারলেন না আর হঠাৎ পুলিশ এসে আপনাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে গেল, তাহলে গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপনাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে। তখন আপনার আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করতে হবে।

যদি থানায় মামলা না হয়ে আদালতে মামলা (সিআর মামলা) হয়, তাহলে আদালত সমন দিতে পারেন কিংবা গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করতে পারেন। এ ক্ষেত্রেও আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে হবে। ক্ষেত্র বিশেষে হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন চাইতে পারেন।

দণ্ডবিধির ২১১ ধারা অনুযায়ী মিথ্যা মামলা করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আপনি নির্দোষ প্রমাণিত হলে মিথ্যা অভিযোগকারী বা মামলা দায়েরকারীর বিরুদ্ধে আপনি পাল্টা মামলা দায়ের করতে পারেন। এছাড়া ক্ষতিপূরণ চাইতে পারেন। মিথ্যা নালিশ আনয়নকারী সব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি ২৫০ ধারা অনুযায়ী মিথ্যা মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ করা যায়।

কোনো পুলিশ কর্মকর্তা আমলযোগ্য নয় এ রকম কোনো মামলায় মিথ্যা প্রতিবেদন দিলে তার বিরুদ্ধেও এ ধারা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ প্রদান করা যায়।

ইদানিং নারী ও শিশু নির্যাতনের মিথ্যা মামলা অনেক বেড়ে গেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে ভুয়া ও মিথ্যা মামলা দায়েরের ফলে সামাজিকভাবে অপদস্থ হওয়া ছাড়াও মামলার খরচ জোগাতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে অনেকেই।

নারী ও শিশু নির্যাতনের মিথ্যা মামলা বা অভিযোগের শিকার হলে আইনের মধ্যে থেকেই আদালতে লিখিত পিটিশন দায়ের করার মধ্য দিয়ে প্রতিকার পেতে পারেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় মিথ্যা মামলা বা অভিযোগের দায়ে অপরাধীর সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আইন যথার্থভাবে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ হোক, কোনো নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার না হোক সেটাই সবার প্রত্যাশা।

নজরুল ইসলাম চৌধুরী
এডভোকেট
মোবাইলঃ- ০১৬১৪-৩৩৫৬৫৬

Address

District & Session Judge's Court, Chittagong.

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Legal Alliance posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Legal Alliance:

  • Want your practice to be the top-listed Law Practice?

Share