30/07/2024
আমার ওকালতি জীবনের শুরুর একটা স্মৃতি । আমি সবেমাত্র ইউনিভার্সিটি জীবন শেষ করে ওকালতি জীবনে পা রাখলাম একজন বিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবীর সাথে জুনিয়র হিসেবে । তখন আমার বয়স ২৪/২৫ । এক বছর পর আমার গ্রামের একটি ডাকাতি মামলা আসলো । আসামির পরিবার খুবই গরীব তাই অল্প খরচে জামিন পাইতে আমার কাছে আসার কারণ । তখন আসামির পক্ষের একজন বলতে শুনলাম এই কি করে ডাকাতি মামলার জামিন নেবে, দেখতে চেংরা, জুনিয়র, ও পারবে না । তখন আমি বললাম আমার সিনিয়র দিয়ে করাব আমাকে উনারা যে টাকা দিতে চাচ্ছে সেই টাকা দিয়ে সিনিয়র তো নেওয়া যাবে না । তারপর ও গ্রামের বাড়ির প্রথম কাজ সাহস করে নিয়ে নিলাম । আমি যথারীতি আসামির জামিনের জন্য মাননীয় জেলা জজ কোর্টে মিছ মামলা ফাইল করলাম । শুনানির দিন যতই আগাচ্ছে আমার ঘুম ততই কম হতে শুরু হলো । আদালতে কি বলবো সবসময় মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো । শুনানির দিন সকালে ভগবানের নাম নিয়ে বাসা থেকে বাহির হলাম । যাক শুনানি শুরু হলো । আমি শুরু করলাম । আদালত বুঝতে পারলেন আমি ভয় পাচ্ছি । তখন মাননীয় আদালত আমাকে বললেন বিজ্ঞ জুনিয়র সাহস করে বলেন আমি আপনাকে সাহায্য করব । তখন আমার সাহস টা কিছুটা বেড়ে গেল । আমি ঠিকঠাক মত সবকিছু বললাম । তারপর সরকার পক্ষের পি পি জোরালো আপত্তি করলো । তখন মাননীয় আদালত পি পিকে বললেন বিজ্ঞ পি পি জোরালো আপত্তি করবেন না । এই জুনিয়রেরা একটা দুই টা জামিন না পাইলে চলবে কি করে । তাছাড়া জামিন দেওয়ার মতো যুক্তি ও আছে, না দিলে ওরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে । আদালত আমার জামিন আবেদন মঞ্জুর করলেন । এবং আমার দিকে তাকিয়ে একটু হাসলেন । তখন আমার কি আনন্দ আমি জামিন নিয়েছি । আজ জামিন পাইলেও আমার আনন্দ লাগে না কারণ আমার সেই আদালত কে আমি আর খুজে পাই না। আমার সেই মাননীয় আদালত গুলো কোথায় হারিয়ে গেছে । বদলে গেছে দিন বদলে গেছে সবকিছু ।