Somrat's Legal Scripta

Somrat's Legal Scripta Where justice finds its voice,
and trust finds its foundation.

10/04/2024

আল্লাহর প্রদত্ত অশেষ রহমতের মাস শেষে ঈদ আনন্দ সকলের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক এই কামনায় সকলকে জানায় ঈদের শুভেচ্ছা।
ধন্যবাদান্তে, অ্যাডভোকেট মোঃ শাহাদাত হোসেন সম্রাট।

একজন আইনজীবী হিসেবে ফৌজদারী মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে মক্কেলদের কাছ থেকে আমি ব্যক্তিগতভাবে যে সকল প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছ...
12/01/2024

একজন আইনজীবী হিসেবে ফৌজদারী মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে মক্কেলদের কাছ থেকে আমি ব্যক্তিগতভাবে যে সকল প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি বা হচ্ছি সেই সকল প্রশ্নের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ রাঙ্কিং এর ১০ টি উল্লেখযোগ্য প্রশ্ন শেয়ার করতে চাই। উক্ত প্রশ্নের সম্ভব কিছু ব্যক্তিগত মতামত ভিত্তিতে উত্তর প্রদান করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং যা আমি সচরাচর (ক্ষেত্রবিশেষে) বিভিন্ন ক্লাইন্টদেরকে দিয়ে থাকি তা আজ উক্ত পোষ্টের মাধ্যমে শেয়ার করলাম। উল্লেখ্য যে, ১০ টি প্রশ্নের মধ্যে প্রথম ৫টি প্রশ্নের উত্তর পোস্ট করা হয়েছে, বাকিগুলো এই পোস্টে প্রদান করা হচ্ছে ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্নগুলো হল:
(১)-(৫) এই লিংকে- https://www.facebook.com/61555300383089/posts/pfbid02vhJZmXCUhWiCe9DahtGnrKfSVpV7jgLLEuJiRL4Bve1AH5irVrEW6tGLo6eTm2FJl/?app=fbl

৬। মামলায় কী কী অধিকার রয়েছে?
৭। মামলা করে বিপত্তিতে পড়তে হবে না তো অথবা বিপরীত পক্ষ বাধা দিতে পারে?
৮। মামলায় কত খরচ হয়?
৯। মামলা শেষ হতে কত সময় লাগে?
১০। মামলায় কী কী ফলাফল হতে পারে?

৬। মামলায় কী কী অধিকার রয়েছে?
=> সাধারণত ফৌজদারী মামলায় আদালত আসামীকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে দন্ডবিধি অনুসারে অথবা ফৌজদারি অন্যান্য আইন অনুসারে শাস্তি মূলত পাঁচ প্রকার দিতে পারে।
1) মৃত্যুদণ্ড,
2) যাবজ্জীবন।
3) কারাবাস। কারাবাস আবার দুই প্রকার - সশ্রম কারাবাস, বিনাশ্রম কারাবাস,
4) অর্থদন্ড( অর্থদণ্ড অনাদায় বিনাশ্রম করাবাস),
5) সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত।
তবে জেনে রাখা ভালো যে, মামলার শুরুতে একজন আসামীকে কিছুদিন হাজত বাস করালেও বাদী পক্ষ মনে করে এটাই তার শাস্তি। মূলত শাস্তি পায় রায়ের পরে। প্রাথমিকভাবে যে হাজতবাসটা খাটে সেটি মূলত আইনের বিধান মোতাবেক জামিন অযোগ্য ধারার একটি বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে মামলা প্রেক্ষিতে, ঘটনা প্রেক্ষিতে আসামীকে নির্দিষ্ট কাস্টডি অতিক্রম করতে হয়। এটিই হলো সে হাজতবাসটা বাস।

৭। মামলা করে বিপত্তিতে পড়তে হবে না তো অথবা বিপরীত পক্ষ বাধা দিতে পারে?
=> ফৌজদারী মামলায় যখন একটি সাধারণ সামাজিক নুইসেন্স বা সমাজ ও আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে এমন কাজের বিপরীতে কেউ মামলা করলে অপরপক্ষ উক্ত মামলা সম্পর্কে জেনে হয় সেটেলমেন্ট করার চেষ্টা করে, না হয় ভিন্ন কোন প্রক্রিয়ায় মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, না হয় কাউন্টার মামলা করে বসে থাকে। আইনের কিছু নির্দিষ্ট ধারায় সেটেলমেন্ট করার সুযোগ আইন এবং আদালত দিয়ে থাকেন এবং তা সেটেলমেন্ট করাই উত্তম। সেটেলমেন্ট বলতে আপোষ মীমাংসা। আপোষ মীমাংসা স্থানীয় ব্যক্তির মাধ্যেমে হয়ে থাকে, আদালতের মাধ্যমে হয়ে থাকে, আইনজীবীদের মাধ্যমেও হয়ে থাকে। তবে সকল মামলায় সেটেলমেন্ট আইন দেয়নি। যৌতুক নিরোধ আইনের মামলা, পারিবারিক সহিংসতার মামলা, চেকের মামলা, চুক্তি ভঙ্গের দরুন ফৌজদারি অপরাধের মামলায় সেটেলমেন্ট সবচাইতে বেশি হয়ে থাকে।
মার্ডার মামলা, ডাকাতি মামলা, চাঁদাবাজি মামলা ইত্যাদি সব মামলার সেটেলমেন্ট আইন সিদ্ধ নয় এবং আইন সমর্থন করেনা।
মামলা ভিন্ন খাতে ভিন্ন মোড়ে নিয়ে যাওয়া এবং কাউন্টার মামলার ফলাফল এ দুটি আইনের ভাষায় সহজ ভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়ে উঠে না। বরং স্থান, কাল, পাত্র, ঘটনা, ক্লায়েন্ট বেসিসের উপর নির্ভর করে বলতে হয়।

৮। মামলায় কত খরচ হয়?
=> এ প্রশ্নটি সবচাইতে বেশি সংখ্যক মানুষের মনে এবং জানার আগ্রহ বেশি থাকে। মূলত দিনশেষে বেশিরভাগ ন্যায় বিচার প্রার্থীরা এই প্রশ্নের উত্তরের উপর নির্ভর করে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। মামলার নির্দিষ্ট খরচ সম্পর্কে সাধারণ আইডিয়া দিতে পারলেও তা কখনো এক্সাক্ট আইডিয়া হতে পারে না। ঢাকা শহর ও প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চল দুটির মাঝে জীবন জীবিকা এবং মানুষের সমস্যা ও তার সমাধান ভিন্নতর। ঠিক তেমনই মামলার খরচ স্থান প্রেক্ষিতে, আইনজীবী প্রেক্ষিতে, মামলার পরিচালনার জন্য সুবিধা অসুবিধা প্রেক্ষিতে খরচে তারতম্য হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ বলতে গেলে মামলার খরচটি আপনি চিকিৎসা খরচের সাথে বিবেচনা করলে বিষয়টি আপনার জন্য সহজ হয়। আপনার একটি শরীরের রোগব্যাধি নিরাময়ের জন্য চিকিৎসা দরুন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডাক্তার এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং হাসপাতালের খরচ এর চেয়ে ঢাকা চট্টগ্রাম শহর অঞ্চলের খরচ কয়েক গুণ বেশি আবার আপনি যদি বিদেশে গিয়ে রোগ নিরাময় করতে চান সে ক্ষেত্রে খরচের ব্যাপ্তি বাকি দুটির চেয়ে অনেক গুণ বেশি। কিন্তু দিনশেষে সাবজেক্ট কিন্তু এইকাই - শরীরের রোগ নিরাময় করতে চাচ্ছেন । আপনি কিভাবে, কোথায়, কার মাধ্যমে এই কাজ করতে চাইছেন সেইটাই খরচের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
প্রশ্নটির উত্তর সহজভাবে দেওয়ার চেষ্টা করার কারণে এই ধরনের উদাহরণ টানা হলো। উক্ত বিষয়ে বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন মতামত থাকতে পারে এবং প্রশ্ন থাকতে পারে যা আপনি জানাতে পারেন জিজ্ঞেস করতে পারেন কমেন্ট বক্সে।

৯। মামলা শেষ হতে কত সময় লাগে?
=> এই প্রশ্নটিও খরচ সম্পর্কিত প্রশ্নের মতই খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ফৌজদারী মামলা দীর্ঘায়িত হওয়ার দরুণ বাদী আর মামলা পরিচালনা করতে চান না এবং অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ন্যায় বিচারের উপর তার আস্থার কমতি ঘটে। মামলা শেষ হতে কত সময় লাগে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে দুটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা সহজ করে বোঝানো যাবে বলে আমি মনে করি ।
প্রথম উদাহরণ - একটি যৌতুক নিরোধ আইনের মামলায় বাদী এবং আসামী কয়েকটি তারিখের মধ্যে হয় আপোষে চলে আসেন, না হয় দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে যার যার মত ভাল থাকার চেষ্টা করেন। সেক্ষেত্রে দেখা যায় সাধারণত এসব মামলা তিন থেকে ছয় মাসের ভেতরে একটি কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়। তবে ব্যতিক্রমও রয়েছে।
দ্বিতীয় উদাহরণ - একটি চেকের মামলা যেখানে আপনি একজন ব্যক্তিকে টাকা ধার দিয়েছেন এবং উক্ত টাকা পরিশোধ করিবার নির্মিত্তে একটি চেক প্রদান করেছে। সঠিক সময়ে টাকা পাননি এবং আপনি চেকের মামলা করেছেন। এই চেকের মামলায় আসামী রায়ের আগের দিন পর্যন্ত সেটেলমেন্টের সুযোগ পায়। যেহেতু সেটেলমেন্টের সুযোগ আইনে দিয়েছে এবং রায়ের আগের দিনও তা করা সম্ভব সেহেতু দেখা যায় যে আসামী মামলাটি দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করে। আইনগত সকল প্রসিডিউর কমপ্লিট করে(সাক্ষী - জেরা - সাফাই সাক্ষী - যুক্তিতর্ক ) সর্বশেষে টাকা দিতে চাই। কারণ যতদিন টাকা তার হাতে থাকবে ততদিন উক্ত টাকার মাধ্যমে সে তার নিজের কাজে লাগাতে পারবে।
উক্ত দুটি উদাহরণ সচরাচর বোধগম্য তাই যথাযোগ্য ধারণা লাভ করার খাতিরে দেওয়া হয়েছে।
তবে সময় সম্পর্কিত সঠিক ধারণা লাভের জন্য আইনজীবীর সাথে খোলাখুলি আলোচনা করাটাই যুক্তিসঙ্গত বলে আমি মনে করি।
১০। মামলায় কী কী ফলাফল হতে পারে?
=> ফৌজদারী মামলায় প্রতিটি ধারায় তার শাস্তি সম্পর্কিত বিধান নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। মামলা করার পূর্বে বিজ্ঞ আইনজীবীর নিকট হতে মামলা পরিচালনাকারী ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরী। মামলার সর্বশেষ স্তরে রায়ের পর্যায়ে বিজ্ঞ আদালতের বিচারিক দক্ষতা প্রয়োগ করে মামলা সর্বোচ্চ শাস্তি বা ওই ধরনের শাস্তি যা যথেষ্ট বলে তিনি মনে করেন তা দিয়ে থাকেন। উদাহরণস্বরূপ বলতে গেলে একটি চুরির মামলায় তিন বছরের শাস্তি উল্লেখ করা থাকলেও বিজ্ঞ আদালত এক বছর অথবা দেড় বছর অথবা তিন বছর সম্পূর্ণরূপে শাস্তি দিতে পারেন। আদালত তার বিচারিক দক্ষতা ক্ষমতা ব্যবহার করে উক্ত রায় দিয়ে থাকেন। একজন আইনজীবী মামলার পরিচালনার বিষয়টি কৌশলগত নিয়ম অনুসারে পরিচালনা করে থাকেন। বাদী সাক্ষী প্রদান করিবেন, অন্যান্য সাক্ষীরা সাক্ষী প্রদান করিবেন, আসামীপক্ষ সাক্ষীদের জেরা করিবেন এবং আসামী পক্ষ নিজের ডিফেন্স তৈরি করবেন। উক্ত সকল কিছু বিবেচনা করে বিজ্ঞ আদালত রায় ঘোষণা করবেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: উক্ত প্রশ্ন এবং উত্তর আমার ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া ও দেওয়া। অ্যাডভোকেট-ক্লায়েন্ট প্রিভিলেজ উইথড্রো করে কোন কিছু প্রদান করা হয়নি।

একজন আইনজীবী হিসেবে ফৌজদারী মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে মক্কেলদের কাছ থেকে আমি ব্যক্তিগতভাবে যে সকল প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছ...
07/01/2024

একজন আইনজীবী হিসেবে ফৌজদারী মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে মক্কেলদের কাছ থেকে আমি ব্যক্তিগতভাবে যে সকল প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি বা হচ্ছি সেই সকল প্রশ্নের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ রাঙ্কিং এর ১০ টি উল্লেখযোগ্য প্রশ্ন শেয়ার করতে চাই। উক্ত প্রশ্নের সম্ভব কিছু ব্যক্তিগত মতামত ভিত্তিতে উত্তর প্রদান করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং যা আমি সচরাচর (ক্ষেত্রবিশেষে) বিভিন্ন ক্লাইন্টদেরকে দিয়ে থাকি তা আজ উক্ত পোষ্টের মাধ্যমে শেয়ার করলাম।
উল্লেখ্য যে, ১০ টি প্রশ্নের মধ্যে প্রথম ৫টি প্রশ্নের উত্তর আজ পোস্ট করবো, বাকিগুলো পরবর্তী পোস্টে প্রদান করা হবে ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্নগুলো হল:

১। মামলা করার জন্য কি কি লাগে?
২। মামলা কিভাবে করতে হয়?
৩। মামলায় কী কী ডকুমেন্ট লাগে?
৪। মামলায় কী কী প্রমাণ করা লাগে?
৫। মামলায় কী কী আইন প্রযোজ্য বা কোন ধারায় মামলা করলে ভালো হয়?
৬। মামলায় কী কী অধিকার রয়েছে?
৭। মামলা করে বিপত্তিতে পড়তে হবে না তো অথবা বিপরিত পক্ষ বাধা দিতে পারে?
৮। মামলায় কত খরচ হয়?
৯। মামলা শেষ হতে কত সময় লাগে?
১০। মামলায় কী কী ফলাফল হতে পারে?

---------------------------------------------------------------------------------------------
১. মামলা করার জন্য কি কি লাগে?
:মামলা করার জন্য সর্বপ্রথম যা প্রয়োজন তা হলো ক্লাইন্ট অ্যাডভোকেট এর মাঝে ট্রান্সপারেন্সি। অর্থাৎ ক্লায়েন্ট ঘটনা বিষয়ের সকল বক্তব্য স্পষ্ট ভাষায় যা ঘটেছে তা ব্যক্ত করতে হবে। সম্পূর্ণ বিষয় অবগত না হয়ে একজনের অ্যাডভোকেট মামলায় ভালো ফলাফল দিতে বা আইনগত সঠিকভাবে সহায়তা করতে পারেন না। একজন আইনজীবীর কাজ হলো তার ক্লাইন্টকে ডিফেন্ড করা এবং ডিফেন্ড করার জন্য যে সকল কৌশল অবলম্বন করতে হবে সবকিছু মামলার বিষয়বস্তু অবলোকন করে নিজের ভেতর সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে হয়। তাই আইনজীবী ও তার ক্লায়েন্টের মধ্যকার আলোচনায় মামলা বিষয়ক ঘটনা লুকানো উচিত না।

২. মামলা কিভাবে করতে হয়?
:বাদীপক্ষ উপস্থিত হয়ে মামলা দায়ের করবেন। সাধারণত মামলা দুইভাবে করা যায় ।থানায় মামলা করা যায় এবং কোর্টে মামলা করেছে।
=> সাধারণত থানায় মামলা করার ক্ষেত্রে কিছু আইনগত ক্রাইটেরিয়া ফলো করতে হয় সে কারণে থানায় মামলা করাটা অপেক্ষাকৃত কঠিন।
=> বাদী পক্ষ কোর্টে গিয়ে মামলা করতে পারে। সেক্ষেত্রে একটি বিচারিক আদালত মামলার বিষয়বস্তু শুনে, বুঝে, নিজে ইনকোয়ারি করে মামলা পাইলিং সম্পন্ন করে। এখানে উল্লেখ্য যে, কিছু কিছু মামলার বৈশিষ্ট্যগত রূপ এমন যে, ফাইলিং করার ক্ষেত্রে বিচারক আদালতের ডকুমেন্টেশন পরীক্ষা করেই মামলা আমলে নিতে পারেন মানে ফাইলিং সম্পন্ন করতে পারে। যেমন: চেকের মামলা।
তবে তার মানে এই নয় যে, বিচারিক আদালত বাদিকে ইনকোয়ারি করতে পারবেন না। বিচারিক আদালত মামলা সম্পর্কিত যেকোনো বৈধ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
যেমন: বিশ্বাসযোগ্যতার অভাবে যে কোন মামলা ২০৩ ধারায় খারিজ করতে পারবে। অর্থাৎ মামলা শুরু হওয়ার আগেই কেস পিটিশনটি খারিজ করতে পারেন।
সাধারণত মামলা ফাইলিং এর ক্ষেত্রে একজন আইনজীবের দায়িত্ব হচ্ছে বাদী পক্ষের সকল বক্তব্য আইনানুগ পন্থায় পিটিশন আকারে নির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়া ফলো করে বিজ্ঞ আদালতে যথাসময়ে উপস্থাপন করা, বিজ্ঞ আদালতের অনুমতির সাপেক্ষে মামলার বিষয়বস্তু সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরা।
মামলা ফাইলিং এ যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হল বিজ্ঞ আদালত মামলার বিষয়বস্তুর সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করানো, উক্ত বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করার অন্যতম দায়িত্ব বাদি পক্ষের এবং ক্ষেত্রবিশেষে তার আনীত এবং মানিত সাক্ষীদের।
এসব বিষয় পড়ে হয়তো পাটকের মামলা ফাইলিং অনেক জটিল মনে হতে পারে কিন্তু বস্তুত পক্ষে তা নয়। বস্তুনিষ্ঠ বিষয়সমূহ সাধারণভাবে উপস্থাপন করতে পারলেই মামলা ফাইলিং সম্ভব হয় ।
তাছাড়া বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত হাজারে হাজারে মামলা দায়ের হচ্ছে।

৩. মামলায় কী কী ডকুমেন্ট লাগে?
:সাধারণত মামলার বিষয়বস্তুর উপর নির্ভর করে ডকুমেন্টের বিষয়ে সঠিক ধারণা দেওয়া সম্ভব হয়। একটি বিবাহ সম্পর্কিত মামলায় কাবিননামা, বাচ্চার জন্য সনদ ইত্যাদি প্রয়োজন হতে পারে। আবার একটি মারামারির মামলায় আহত ভিকটিমের প্রাথমিক চিকিৎসা সনদ প্রয়োজন হতে পারে। ঠিক তেমনটাই প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে ডকুমেন্টের ভিন্নতা থাকতেই পারে। তবে কিছু কিছু বিষয়ে স্পষ্ট রূপে থাকতে হয়। যেমন: বাদীর পরিচয় পত্র, আসামীর নাম, পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ইত্যাদি।

৪. মামলায় কী কী প্রমাণ লাগে?
:মামলার বিষয়বস্তু ও তার সত্যতা সম্পর্কে মামলার বাদীকে প্রমাণ করা লাগে। তা প্রমাণের জন্য বাদী ও বাদীপক্ষে মানিত সাক্ষীরা উক্ত বিষয়বস্তু ও ঘটনা সম্পর্কে সত্যতা প্রমাণ করিবেন। ক্ষেত্রবিশেষে পুলিশ ইনভেস্টিগেশন মারাফতে নিরপেক্ষ সাক্ষী উক্ত মামলা প্রমাণে জোরদার ভূমিকা রাখে। যে সকল বিষয় প্রমাণ করতে হবে তা মূলত নির্ভর করে ঘটনা প্রেক্ষিতে মামলার বিষয়বস্তু সম্পর্কিত ধারা ও বিজ্ঞ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে উক্ত বিষয়ে সাক্ষী প্রমাণ। সহজ ভাষায় বলতে গেলে বাদী আসামিদের বিরুদ্ধে যে অপরাধের শাস্তি কাম্য করছে সে অপরাধ তারা আসলে করেছে তার প্রমাণ দাখিল করতে হবে।
প্রমাণ সাধারণত মৌখিক ও দালিলিক হয়ে থাকে। প্রত্যক্ষ সাক্ষীরা মৌখিক সাক্ষী প্রদান করিবে। দালিলিক বিষয় প্রমাণের জন্য দলিল উপস্থাপন একান্ত প্রয়োজন। তবে মামলার ক্ষেত্র বিশেষে অনেক ব্যতিক্রম ধর্মী অনেক কিছু রয়েছে যা সহজ ভাষায় ব্যক্ত করা সম্ভব নয়।

৫. মামলায় কী কী আইন প্রযোজ্য?
:এই প্রশ্নটি বিভিন্ন ক্লাইন্ট বিভিন্নভাবে আইনজীবীদেরকে সাজেশন আকারে বক্তব্য প্রদান করে থাকে।
যেমন: নারী নির্যাতন মামলা দিয়ে দিন, টাউট বাটপারি মামলা দিয়ে দিন, মার্ডার মামলা দিয়ে দিন (যেখানে হতাহতের কোন চিহ্নই নেই), বেশি বেশি সেকশন ওয়ালা বড় বড় আইনের মামলা দিয়ে দিন, সর্বোপরি একটি বক্তব্য যা - এমন মামলা দেন যেন কারাগার থেকে জীবনেও বের হতে না পারে।
নিশ্চয়ই প্রতিটা আইনজীবী এই ধরনের বক্তব্য ও প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন। আসলে ক্লাইন্টের এটা বোঝা উচিত শুধু মামলা করলেই সব শেষ নয়, বরণ মামলাটি প্রমাণেরও বিষয় থাকে। প্রতিটি আইন তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও অপরাধ সম্পর্কিত ব্যাখ্যার মাধ্যমে তার শাস্তি সম্পর্কে বিধিবদ্ধ রয়েছে। মাছ এবং মাংস একসাথে রান্না করতে গেলে যেমন স্বাদ বিস্বাদে পরিণত হয়, ঠিক তেমনটি একটি নির্দিষ্ট ঘটনার নির্দিষ্ট আইনে মামলা না করে বিভিন্ন আইনে মামলা করতে গেলে বা বিভিন্ন ধারায় মামলা করতে গেলে ফল বিফলে পরিনত হয়। ঘটনার বিষয়বস্তু অনুসারে, অপরাধের বিষয়বস্তু অনুসারে যে ধারা বা আইন মামলার শেষ পর্যন্ত প্রমাণে খাটবে একজন আইনজীবী ওই ধরনের মামলাই ওই সেকশনে করতে পরামর্শ প্রদান করে।

ইনশাল্লাহ পরবর্তী পোস্টে বাকি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা চেষ্টা করবো। এই পোস্ট সম্পর্কে আপনার সুচিন্তিত মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। ভিন্ন কোন প্রশ্ন যদি করতে চান বা উক্ত প্রশ্ন সমূহের ভিন্ন কোন উত্তর প্রদান করতে চান, তাহলে কমেন্টে তা অবশ্যই করবেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: উক্ত প্রশ্ন এবং উত্তর আমার ব্যক্তিগত পেশাগত জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া ও দেওয়া। অ্যাডভোকেট-ক্লায়েন্ট প্রিভিলেজ উইথড্রো করে কোন কিছু প্রদান করা হয়নি।

06/01/2024

শিরোনামঃ
একজন আইনজীবী হিসেবে আমাদেরকে আইন ও আইনের ভাষ্য সবসময় বিমোহিত করে। জানার আগ্রহ বাড়িয়ে তুলে। তারই প্রেক্ষিতে একটি বিষয় আজ লিখছি।

মূল কারণ :
কিছুদিন আগে কোরআন তেলাওয়াত ও তার অর্থ বুঝতে গিয়ে খুবই বিমোহিত হলাম।

বিমোহিত হওয়ার পটভূমি :
আমাদের কাছে কত মানুষ জানা অজানা, চিরো চেনা আবার সম্পূর্ণ অজানা সমস্যা নিয়ে আবির্ভাব হয়। সকল ক্ষেত্রে আমরা আইনজীবীরা প্রথমেই বলে থাকি ঘটনা স্বপক্ষে সলিড প্রমাণ বা দলিল দস্তাবেজ কি আছে। কোনো স্বীকৃতি পত্র বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ রয়েছে কিনা। বেশিরভাগ জায়গা জমি সংক্রান্ত বা অধিকার সংক্রান্ত মামলা মোকদ্দমা সবার উপরে দেখা হয় দলিল দস্তাবেজ।
ঠিক একইভাবে সকল সম্পত্তির মালিক হিসেবে নিজেকে ডিক্লেয়ার করা একটি দলিল পাওয়া গিয়েছে(অনেক আগেই)। উক্ত দলিলের মালিক সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত কিন্তু সেটা মুখে মুখে শুনে আসছি টিক কিন্তু দালিলিক প্রমাণ সম্পর্কিত অজ্ঞতার কারণে ওভাবে উপলব্ধি করে উঠতে পারেনি(আপাতত আমি) এবং সেই কারণেই বোধই সম্পত্তি নিয়ে(সাধারণ মানুষের) যে টানাটানি, মারামারি ও বিদ্বেষ মূলক আচরণ তা নিমিষেই লাঘব হচ্ছে না।

সেই মালিকের নাম কিন্তু 99 টি।
আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তায়ালা।

যা পড়ে আমি বিমোহিত হলাম:
আল্লাহ সকল কিছুর মালিক এই বিষয়টি কোরআনের বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি সুরা এবং আয়াত হল:

সুরা হাসর, আয়াত ৮:
"তিনিই আল্লাহ, যিনি আসমান ও যমীনের মালিক, তিনিই সকল কিছুর মালিক।"

সুরা আন-নাহল, আয়াত ৫২:
"আল্লাহই আসমান ও যমীনের মালিক, তিনিই সকল কিছুর মালিক।"

সুরা ইব্রাহিম, আয়াত ২৬:
"আমিই আল্লাহ, আমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আমিই জীবন দান করি এবং মৃত্যু ঘটাই। আমিই সকল কিছুর মালিক।"

একটি ব্যাপার লক্ষ্য করলে দেখবেন এই আয়াতগুলোতে আল্লাহ ডাইরেক্ট ডিক্লারেশন দিয়েছে তিনি সকল কিছুর মালিক। সেটা আমরা শুনি মানি কিন্তু সে অনুসারে পালন করি না। প্রকাশ করি না মালিকের অনুগত্যতা। উল্টো আল্লাহর নেয়ামত পাওয়ার জন্য একে অপরের প্রতি হিংসা বিদ্বেষ করে চলছে। মূলত যা করার নির্দেশ রয়েছে তা পালন করছি না।
সম্পত্তি বিষয়ে আগ্রহ নেই এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু দিনশেষে এই সম্পত্তি কারো নয় বরং আল্লাহর। এই বিষয়টি যে মনে প্রানে ধারণ করতে পারবে সেই সফল হবে ইনশাআল্লাহ।

Address

Court Chamber: Room # 648 (6th Floor), Ainjibi Shapla Bhavan, Court Hill
Chittagong
4000

Opening Hours

Monday 09:00 - 18:30
Tuesday 09:00 - 18:30
Wednesday 09:00 - 18:30
Thursday 09:00 - 16:00
Sunday 09:00 - 18:30

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Somrat's Legal Scripta posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category