05/05/2023
রেইপ কেইস সম্পর্কে যা জেনে রাখা ভালো :
১. বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ মামলায় এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে কেউ শাস্তি পায়নি৷ এইসব মামলা করা হয় হয়রানির জন্য। ইনভেস্টিগেশন স্টেজেই বেশীরভাগ মামলায় আপোষ হয়ে যায় অথবা ট্রায়ালে আসামি খালাস পেয়ে যায়।
২. রেইপ কেইস এ আসামিকে শাস্তি দিতে ডাক্তারি পরীক্ষার প্রয়োজন নাই এটা কোন নতুন কথা না। এই বিধানটি বহু বছর ধরেই আমাদের দেশে চলে আসছে। ডাক্তারি পরীক্ষায় পেনিট্রেশন হয়েছে কিনা আর কোন ইনজুরি আছে কিনা এইটুকু শুধু বোঝা যায়। কনসেন্ট ছিল কিনা তা বোঝার উপায় নাই।
৩. রেইপ কেইস এ সাধারণত কোন সাক্ষী থাকে না। ভিকটিম নিজেই একমাত্র সাক্ষী। শুধু ভিকটিমের সাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করেই আসামীকে শাস্তি দেওয়া যায়। তাই ভিকটিমের বক্তব্য বিশ্বাস করা উচিত হবে কিনা এইজন্য ভিকটিমের নৈতিক চরিত্র সম্পর্কে যাচাই বাছাই করা যায়। তবে সাক্ষ্য আইনে 'অপ্রয়োজনীয়ভাবে আক্রমণাত্মক' প্রশ্ন করা নিষেধ। কিন্তু ভিকটিমের চরিত্র সম্পর্কে প্রশ্ন করা যাবে। সাক্ষ্য আইনের ১৫৫(৪) ধারায় এই সুযোগ আছে। এই সুযোগটি না থাকলে কেউ অন্যকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার জন্য নিজেকে ভিকটিম হিসেবে উপস্থাপন করলে যাকে ফাঁসাবে তাকে বাঁচানোর কেউ থাকবে না।
তাই এই সুযোগটি বাতিল করলে তখন শুধু ভিকটিমের কথার উপর ভিত্তি করে শাস্তি দেওয়া যাবে না। রেইপ কেইসে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর দরকার পড়বে যা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই সাক্ষ্য আইনের ১৫৫(৪) বাতিল করলে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হবে। নারীবাদী যারা এই সেকশনটি বাতিল করার কথা বলেন তারা ক্রিমিনাল ল সম্পর্কে না জেনেই এই দাবি করে থাকেন।
ভারতে ২০০৩ সালে সাক্ষ্য আইনের ১৫৫(৪) ধারা বাতিল করা হয়েছে নরীবাদীদের দাবীর মুখে৷ কিন্তু সাক্ষ্য আইনের ১১ ধারার অধীনে ১৫৫(৪) এর পুরো সুযোগ নেওয়া হচ্ছে। ১১ ধারা বাতিল করা অসম্ভব। তাই ১৫৫(৪) ধারা বাতিল করলে নারীদের কোন উপকার হবে না কিন্তু পুরুষরা অহেতুক ফেঁসে যাবে।
৪. পুরো পৃথিবীতে রেইপ কেইস প্রমাণ করা খুব কঠিন। ইংল্যান্ড, আমেরিকার মত উন্নত বিচারব্যবস্থার দেশেও অন্যসব ক্রাইমের কনভিকশন রেটের চেয়ে রেইপের কনভিকশন রেট অর্ধেকের কাছাকাছি। রোমান্টিক রিলেশনশিপে থাকলে ওই রিলেশনশিপ থেকে রেইপ হলে তা প্রমাণ করা প্রায় অসম্ভব। বাংলাদেশে এখন শতকরা ৩ টা রেইপ কেইস প্রমাণ করা যায়। নিরপেক্ষ এবং উন্নত হলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা সর্বোচ্চ ৬-১০% রেইপ প্রমাণ করা যাবে। এর বেশি যাবে না। তার মানে ৯০% রেইপ কেইসে একিউসড কোন শাস্তি পাবে না।
বিশ্বজুড়ে ক্রিমিনাল ল এক্সপার্টদের ধারণা বদলাচ্ছে। তারা কনসেন্ট বেইসড রেইপ এর সংজ্ঞাকে ভুল মনে করছেন। যার কারণে কনসেন্টও প্রমাণ করা যায় না, রেইপও প্রমাণ করা যায় না। তারা মনে করছেন ম্যারেজ বেইজড রেইপ এর ডেফিনেশন হলে রেইপ কোর্টে প্রমাণ করা যাবে। বলা যায়, ওনারা ধর্মের পথে ফিরে আসার ব্যাপারে একমত হচ্ছেন।
৫. ম্যারিটাল রেইপ বলে যে জিনিসটা নিয়ে আমাদের দেশের প্রগতিশীলরা খুবই সোচ্চার যেসব দেশে এই ম্যারিটাল রেইপকে ক্রাইম বিবেচনা করা হয় ওইসব দেশেও এটা নামেমাত্র ক্রাইম। ম্যারিটাল রেইপের অভিযোগে শাস্তি পাওয়ার ঘটনা বিরল। বিশ্বাস না হলে ক্রিমিনাল ল এর বইপত্র পড়ে দেখুন।
৬. বর্তমানে যারা বেঁচে আছেন তাদের মধ্যে একেবারে প্রথমসারির ক্রিমিনাল ল এক্সপার্টদের একজন হচ্ছেন প্রফেসর ডগলাস হুসাক। তিনি প্রমাণ করেছেন, 'No means No' এটা সবসময় সত্যি না। তিনি প্রমাণ করেছেন, Sometimes No means Yes. তার এই বক্তব্য ক্রিমিনাল লইয়ার এবং ক্রিমিনাল ল এর একাডেমিশিয়ানদের মধ্যে স্বীকৃতি পেয়েছে৷
উপরের সবগুলো ফ্যাক্ট। ক্রিমিনাল ল সম্পর্কে পর্যাপ্ত নলেজ থাকলে কিংবা আইনজীবী হইলে লিগাল ইস্যুতে ডিবেট উৎসাহিত করা হচ্ছে।
ধন্যবাদ সবাইকে।