13/08/2026
⚖️ অর্পিত সম্পত্তি 'খ' তফসিল বাতিল!!! আপিল বিভাগের ঐতিহাসিক রায়:
সাইটেশন: 28 BLC (AD), P-88
⚖️ মামলা: Civil Petition for Leave to Appeal No. 2310 of 2018
>কেন এই রায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশের অর্পিত সম্পত্তি (Vested Property) সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের আইনি অস্পষ্টতা ও জটিলতা নিরসনে এই রায়টি একটি অন্যতম মাইলফলক।
এই রায়ের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করেছেন যে—
★২৩ মার্চ ১৯৭৪-এর পর নতুন করে কোনো সম্পত্তিকে 'শত্রু সম্পত্তি' বা 'অর্পিত সম্পত্তি' হিসেবে তালিকাভুক্ত করার কোনো আইনি বৈধতা নেই।
এছাড়া, বিচার বিভাগ ও আইন বিভাগের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং সংবিধানিক এখতিয়ার নিয়ে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।
মামলার পটভূমি (Facts of the Case)
একজন বাংলাদেশি নাগরিক হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন, যেখানে তিনি ১৯৭৬ সালের একটি অধ্যাদেশ এবং ২০০১ সালের অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন-এর ৬ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন।
মূল বিরোধ:
১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হিন্দু সংখ্যালঘুদের সম্পত্তিকে 'শত্রু সম্পত্তি' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল, যা স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে, ১৯৭৪ সালের পর নতুন করে বিভিন্ন সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা এবং সরকারি দখলে রাখা ছিল এই মামলার মূল আইনি লড়াই।
⚖️ #আইনি_ইস্য (Legal Issues):
১. সাধারণ নাগরিকের এই আইন চ্যালেঞ্জ করার Locus Standi (মামলা করার আইনি অধিকার) আছে কি না?
২. ২৩ মার্চ ১৯৭৪-এর পর কোনো সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা বৈধ কি না?
৩. হাইকোর্ট বিভাগ সরকার বা সংসদকে কোনো নির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের নির্দেশ দিতে পারে কি না?
★★★ উভয় পক্ষের যুক্তি:
★ রিট আবেদনকারীর যুক্তি:
১৯৭৪ সালের পর এবং বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর নতুন করে কাউকে 'শত্রু' গণ্য করে সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়া মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
★সরকারের যুক্তি:
রিট আবেদনকারী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি নন, তাই তাঁর রিট করার অধিকার নেই। এছাড়া, ১৯৭২ সালের President's Order No. 29 সংবিধানের ১ম তফসিলে সুরক্ষিত থাকায় তা চ্যালেঞ্জযোগ্য নয়।
★★★আদালতের সিদ্ধান্ত ও কারণঃ
★আদালতের চূড়ান্ত রায়:
>হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া অধিকাংশ পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা Expunge (বাতিল) করা হয়।
>আদালত পুনরায় স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, ২৩ মার্চ ১৯৭৪-এর পর কোনো সম্পত্তিকে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অকার্যকর।
>২০০১ সালের অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন (২০১৩ সংশোধিত) বহাল রাখা হয়, কারণ এতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে।
★আদালতের ব্যাখ্যার মূল পয়েন্টসমূহ:
>আইন প্রণয়নের ক্ষমতা: কোন আইন প্রণয়ন করা হবে তা আইনসভার (সংসদের) নীতিগত সিদ্ধান্ত। বিচার বিভাগ সংসদকে আইন প্রণয়নের নির্দেশ দিতে পারে না।
@ বিদ্যমান প্রতিকার: ২০০১ সালের আইনে নির্দিষ্ট ট্রাইব্যুনাল ও আবেদনের প্রক্রিয়া নির্ধারিত রয়েছে।
★ Locus Standi: জনস্বার্থে কিংবা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি (Aggrieved Person) হলে নাগরিক রিট করতে পারেন।
%%%নাগরিক ও আইনজীবীদের জন্য ব্যবহারিক গুরুত্বঃ
★সাধারণ নাগরিকদের জন্য:
নতুন করে সম্পত্তি অর্পিত হওয়ার আতঙ্ক দূর হলো। ২৩ মার্চ ১৯৭৪-এর পর বেআইনিভাবে তালিকাভুক্ত সম্পত্তির মালিকরা বিদ্যমান ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে প্রতিকার চাইতে পারবেন।
★ আইনজীবীদের জন্যঃ
অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার এবং Locus Standi সংক্রান্ত আপিল বিভাগের এই আধুনিক ব্যাখ্যা ভবিষ্যতের সাংবিধানিক মামলার জন্য একটি শক্তিশালী নজির (Precedent)।
★★★ চূড়ান্ত সারসংক্ষেপ★★★
রাষ্ট্র দাবিহীন অর্পিত সম্পত্তি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা করতে পারবে, কিন্তু ২৩ মার্চ ১৯৭৪-এর পর নতুন করে কোনো সম্পত্তি অর্পিত হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুযোগ আর রইল না।
নজরুল ইসলাম ইমন
এল.এল.বি(অনাস),এল.এল.এম.
অ্যাডভোকেট, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, চট্টগ্রাম।
📞 ০১৮৩৩২৫০৮১০
★ আইন জানুন, এগিয়ে থাকুন ★