21/04/2026
বাংলাদেশ পুলিশ আবাসিক হোটেলে (residential hotel/guest house) রেইড দিতে পারে একাধিক আইনের ভিত্তিতে।
নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন আইন প্রযোজ্য হয়।
১. Code of Criminal Procedure, 1898 (CrPC)
এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইন।
* ধারা ১৬৫:
পুলিশ যদি যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ করে যে কোনো স্থানে অপরাধসংক্রান্ত প্রমাণ আছে, তাহলে তারা ওয়ারেন্ট ছাড়াই তল্লাশি (search) করতে পারে।
* ধারা ১০৩:
তল্লাশির সময় সাধারণত স্থানীয় সাক্ষী (independent witness) রাখতে হয়।
অর্থাৎ, কোনো অপরাধের তথ্য/সন্দেহ থাকলে হোটেলে রেইড দেওয়ার আইনি ক্ষমতা এখানে থেকে আসে।
২. Penal Code, 1860
এই আইনে বিভিন্ন অপরাধ সংজ্ঞায়িত করা আছে।
* যদি হোটেলে ব্যভিচার, মানবপাচার, অবৈধ আটক, চুরি, মাদক সংক্রান্ত কার্যক্রম ইত্যাদি ঘটে—
তাহলে সেই অপরাধের তদন্তে পুলিশ রেইড দিতে পারে।
৩. Narcotics Control Act, 2018
* মাদক সংক্রান্ত তথ্য থাকলে পুলিশ হোটেল রুমেও তল্লাশি চালাতে পারে।
* মাদক পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করা যায়।
৪. Immoral Traffic (Prevention) Act, 1933
* পতিতাবৃত্তি বা মানবপাচারের সন্দেহ থাকলে
পুলিশ হোটেলে অভিযান চালাতে পারে।
৫. Police Act, 1861
* এই আইনে পুলিশের সাধারণ law & order বজায় রাখা ও অপরাধ প্রতিরোধের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
* এর আওতায় পুলিশ সন্দেহজনক কার্যকলাপ হলে রেইড করতে পারে।
৬. স্থানীয় প্রশাসনিক নির্দেশনা (Magistrate power)
* অনেক সময় ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে (mobile court বা executive order) রেইড হয়।
* বিশেষ করে:
* অনিবন্ধিত অতিথি রাখা
* পরিচয়পত্র যাচাই না করা
* নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন
গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব বিষয়
* সাধারণত ওয়ারেন্ট ছাড়া রেইড করা যায়, যদি জরুরি পরিস্থিতি বা যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ থাকে
* তবে অকারণে বা হয়রানিমূলক রেইড আইনসিদ্ধ নয়
* ভুক্তভোগী হলে আদালতে প্রতিকার চাওয়া যায়।