19/11/2024
১৯ নভেম্বর বিশ্ব পুরুষ দিবস।
ঘর, সংসার, পরিবার, সমাজ, দেশ ও পৃথিবীর সকল মানুষ পুরুষকে দিবসের শুভেচ্ছা। তাদের জন্যে রইল সম্পর্কের ভিত্তিতে অনেক অনেক আদর, স্নেহ ও ভালোবাসা। দোয়া করি তাহারা যেন সব সময় মানুষ পুরুষ হিসাবে থাকতে পারে। আর যারা এখনও মানুষ পুরুষ হতে পারেনি আল্লাহ তাহাদের হেদায়েত দান করুন। আমিন।
প্রতি বছর ১৯ নভেম্বর তারিখে পালিত হয়। বিশ্বব্যাপী পুরুষদের মধ্যে লিঙ্গ ভিত্তিক সমতা, বালক ও পুরুষদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং পুরুষের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার প্রধান উপলক্ষ হিসেবে এই দিবসটি উদ্যাপন করা হয়ে থাকে।
#ইতিহাস :
পুরুষ দিবস পালনের প্রস্তাব প্রথম করা হয় ১৯৯৪ সালে। তবে ইতিহাস বেশ পুরোনো। ১৯২২ সাল থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নে পালন করা হতো রেড আর্মি অ্যান্ড নেভি ডে। এই দিনটি পালন করা হতো মূলত পুরুষদের বীরত্ব আর ত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে।
২০০২ সালে দিবসটির নামকরণ করা হয় ‘ #ডিফেন্ডার_অফ_দ্যা_ফাদারল্যান্ড_ডে’ হিসেবে। রাশিয়া, ইউক্রেনসহ তখনকার সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে এই দিবসটি পালন করা হতো। বলা যায়, নারী দিবসের অনুরূপভাবেই দিবসটি পালিত হয়। ষাটের দশক থেকেই পুরুষ দিবস পালনের জন্য লেখালেখি চলছে। ১৯৬৮ সালে আমেরিকান সাংবাদিক জন পি হ্যারিস নিজের লেখায় এ দিবসটি পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
নব্বই দশকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও মাল্টায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ফেব্রুয়ারিতে পুরুষ দিবস পালনের জন্য বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। যদিও অনুষ্ঠানগুলো খুব একটা প্রচার পায়নি। অংশগ্রহণও ছিল কম। পরবর্তী সময়ে ১৯ নভেম্বর পুরো বিশ্বে পুরুষ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
#লক্ষ্য_ও_উদ্দেশ্য :
এই দিবসের উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছেঃ[৩]
পুরুষ ও বালকদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি;
নারী-পুরুষের লৈঙ্গিক সম্পর্ক উন্নয়ন বিষয়ক প্রচারণা;
নারী-পুরুষের লৈঙ্গিক সাম্যতার প্রচার;
পুরুষদের মধ্যে ইতিবাচক আদর্শ চরিত্রের গুরুত্ব তুলে ধরা;
পুরুষ ও বালকদের নিয়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন সংস্কার ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরী;
পুরুষ ও বালকদের অর্জন ও অবদানকে উদ্যাপন;
সমাজ, পরিবার, বিবাহ ও শিশু যত্নের ক্ষেত্রে পুরুষ ও বালকদের অবদানকে তুলে ধরা।
--(তথ্য: উইকিপিডিয়া)
কিন্তু, বর্তমান সময়ে এই দিবসের গুরুত্ব আরো বিস্তৃতি লাভ করেছে। এক সময় সতীদাহপ্রথা প্রচলিত ছিলো। তখন স্বামীর মৃত্যুর পর, স্ত্রীকে জীবন্ত অবস্থায় স্বামীর সাথে সমাহিত করা হতো বা পুড়িয়ে ফেলা হতো।
এক সময় এটাও বন্ধ হয়ে যায়। নারীদের বেঁচে থাকার অধিকার আছে বিবেচনায় তা বন্ধ হলেও, নানা রকম নির্যাতনের শিকার হতে হতো। পরে সেসব নির্যাতন বন্ধে নারী অধিকারের আন্দোলন হয় এবং তা গৃহীত হয়। তৈরী হয় নারী বান্ধব বহু আইন।
আর এই নারী অধিকার আন্দোলন সম অধিকারের নামে #পুরুষ_নির্যাতনের রূপে প্রতিষ্ঠিত হয়।
ফলে এখন সমাজে প্রায় ৯২% পুরুষ বিভিন্ন ভাবে নারী বা স্ত্রী-শাশুড়ি কর্তৃক চরমভাবে অবহেলিত, নির্যাতন বা হয়রানির শিকারে এসে দাঁড়িয়েছে !
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বহু আইন থাকলেও, পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে পৃথিবীর কোনো দেশেই সুনির্দিষ্ট কোনো আইন নেই।
ফলে নারী কর্তৃক পুরুষ নির্যাতনের মাত্রা ক্রমাগত বেড়েই চলছে। সমাজ এবং সংসারে এর বিরাট প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। প্রতিটি সংসারেই অশান্তি, ঝগড়াঝাঁটি, বিবাহ বিচ্ছেদের মত ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে।
এক জরিপে দেখা গিয়েছে ২৪ ঘন্টায় প্রায় ২৬ টি তালাক বা বিচ্ছেদের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। যেখানে নারী কর্তৃক তালাকের পরিমাণ চরম আকার নিয়েছে। খুব সহজেই ভেঙে যাচ্ছে একটি সাজানো সংসার। আর এর ক্ষতিকারক প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের সন্তান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম !
সুতরাং আসুন আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর সমাজ ব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠিত করি।