Advocate Mazharul Anawer Uzzal

Call Contact the practice

Advocate Mazharul Anawer Uzzal আইন মানব সমাজের দর্পণস্বরূপ।
মোবাইল : ০১৭১৬-৫৪৬৮৪৮(Whatsapp)
ইমেইল: mazharulanawer84@gmail

31/08/2026

চেকের মামলায় নোটিশ পাননি কিংবা ভুল ঠিকানায় নোটিশ পাঠিয়েছে? কিভাবে মামলা বাতিল কিংবা খারিজ হতে পারে জেনে নিন!

আপনার নামে যদি চেক বাউন্সের (চেক ডিজঅনার) মামলা হয়ে থাকে, তাহলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। এই মামলায় জেতার একটা বড় সুযোগ লুকিয়ে থাকে একটা জায়গায় — "নোটিশ" ঠিকমতো আপনার কাছে পৌঁছেছিল কিনা।

আইন বলে — শুধু চেক বাউন্স হলেই কেউ ফৌজদারি অপরাধী হয়ে যায় না। বাদী (যিনি মামলা করেছেন) আগে আপনাকে লিখিত নোটিশ দিয়ে টাকা পরিশোধের সুযোগ দিতে বাধ্য। এই নোটিশ যদি ঠিকমতো না পৌঁছায়, বা পৌঁছানোর প্রমাণ না থাকে — তাহলে গোটা মামলাই ভেঙে পড়তে পারে।

নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারা অনুযায়ী, বাদীর চেক ব্যাংক থেকে ফেরত (ডিজঅনার) হওয়ার পর তাকে ৩০ দিনের মধ্যে আপনাকে লিখিতভাবে জানাতে হবে যে — "আপনার চেক ফেরত এসেছে, টাকা দিন।"

এই নোটিশ পাঠানো কোনো সাধারণ নিয়ম নয় — এটা বাধ্যতামূলক শর্ত। এই শর্ত পূরণ না হলে মামলা দাঁড়াতেই পারে না।

সহজ করে বললে — নোটিশ হলো মামলার "প্রবেশদ্বার"। দরজাই যদি ঠিক না থাকে, তাহলে ভেতরে ঢোকার প্রশ্নই আসে না। এম.এ লতিফ বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য মামলা যা ৩৯ বিএলডি (২০১৯) ২২২ (হাইকোর্ট বিভাগ।

আসামি হিসেবে আপনি আদালতে নিচের যেকোনো একটি বা একাধিক পয়েন্ট তুলে ধরতে পারেন:

ক) আপনি যদি সত্যিই কোনো নোটিশ না পেয়ে থাকেন, তাহলে সরাসরি বলুন — "আমি কোনো নোটিশ পাইনি।" বাদীকেই প্রমাণ করতে হবে যে তিনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এবং সেটা আপনার কাছে পৌঁছেছে। মোঃ আজহার আলী বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য মামলা, ৬৪ ডিএলআর (২০১২) ২৫৫

খ) বাদী শুধু মুখে বললেই হবে না যে তিনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। তাকে আদালতে দেখাতে হবে: একনলেজমেন্ট ডিউ কার্ড বা "এডি কার্ড" (যা প্রমাণ করে চিঠি হাতে পৌঁছেছে) সঠিক ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে তার প্রমাণ

এসবের কোনোটা যদি না থাকে বা কোনো গরমিল থাকে, তাহলে আপনি এই দুর্বলতা আদালতে তুলে ধরতে পারবেন।

গ) নোটিশ যদি আপনার পুরনো ঠিকানায়, ভুল বাড়িতে বা এমন কোনো ঠিকানায় পাঠানো হয় যেখানে আপনি থাকেন না — তাহলে সেটা "যথাযথভাবে জারি" হয়েছে বলে গণ্য হবে না।

ঘ) নোটিশ যদি পিয়ন বা প্রসেস সার্ভারের মাধ্যমে পাঠানো হয়ে থাকে, আর তার রিপোর্টে কোনো অসংগতি বা ভুল থাকে, সেটাও আপনার পক্ষে যুক্তি হতে পারে।

উচ্চ আদালত একাধিক মামলায় স্পষ্ট করে বলেছে যে —

নোটিশ জারিতে কোনো যৌক্তিক সন্দেহ তৈরি হলে, সেই সন্দেহের সুবিধা আসামিই পাবেন — বাদী নয়।
শুধু রেজিস্ট্রি ডাকে চিঠি পাঠানো হলেই একটা প্রাথমিক ধারণা তৈরি হয় যে সেটা পৌঁছেছে, কিন্তু এই ধারণা চ্যালেঞ্জ করা যায় এবং প্রমাণ দিয়ে ভুল প্রমাণিত করা যায়।
কাউকে টাকা পরিশোধের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি ফৌজদারি মামলায় জড়ানো ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
এই ধরনের ভুলকে আদালত ছোট বা "টেকনিক্যাল" ভুল হিসেবে দেখে না — এটাকে মৌলিক ত্রুটি হিসেবে গণ্য করা হয়, যার ফলে সরাসরি খালাস হতে পারে। অর্থাৎ, আইন ও আদালত — দুটোই এই জায়গায় আসামিকে সুরক্ষা দেয়।

উকিলকে খুলে বলুন — নোটিশ পেয়েছেন কিনা, কবে পেয়েছেন, কোন ঠিকানায় পাঠানো হয়েছিল বলে বাদী দাবি করছে, আপনি তখন সেখানে ছিলেন কিনা। মামলার নথিতে বাদীর পাঠানো পোস্টাল রসিদ, এডি কার্ড, বা ঠিকানা প্রমাণ আছে কিনা যাচাই করুন।

জেরায় (ক্রস-এক্সামিনেশনে) প্রশ্ন তুলুন — বাদী বা তার সাক্ষীকে জিজ্ঞাসা করান, নোটিশ ঠিক কবে, কোন ঠিকানায়, কীভাবে পাঠানো হয়েছিল, আর তার প্রমাণ কী।
নিজের ঠিকানার প্রমাণ দিন — যদি ভুল ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়ে থাকে, তাহলে আপনার প্রকৃত ঠিকানার প্রমাণ (ভোটার আইডি, বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদি) আদালতে দাখিল করুন।
সময়ের হিসাব রাখুন — চেক বাউন্সের কত দিন পর নোটিশ পাঠানো হয়েছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। দেরিতে নোটিশ পাঠানো হলে সেটাও আইনি ত্রুটি হতে পারে।

নোটিশ ছাড়া মামলা টেকে না — এটাই মূল কথা। বাদীর দায়িত্ব প্রমাণ করা যে নোটিশ সঠিকভাবে পাঠানো ও পৌঁছানো হয়েছে — আপনার দায়িত্ব নয় প্রমাণ করা যে পাননি।
সন্দেহ তৈরি করতে পারলেই তার সুবিধা আপনি পাবেন।
এটা কোনো ফাঁকফোকর নয় — এটা আইনের স্পষ্ট বিধান এবং আদালতের স্বীকৃত নীতি।

চেকের মামলায় ভয় পাওয়ার আগে দেখে নিন — নোটিশ ঠিকমতো এসেছিল কিনা, কোন ঠিকানায় এসেছিল, আর বাদীর কাছে তার সঠিক প্রমাণ আছে কিনা। এই একটা জায়গা ধরেই অনেক নির্দোষ মানুষ মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন।

28/08/2026

মাদক উদ্ধারের পর মামলা কেন আদালতে টিকে না? জানুন ভেতরের আইনি সত্য!

আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত অসংখ্য মাদক মামলা আদালতে ওঠে। কিন্তু একটি মামলা শুধু "মাদক উদ্ধার হয়েছে" বললেই আসামি দোষী প্রমাণিত হয়ে যান না — ফৌজদারি আইনের চিরন্তন নীতি হলো, রাষ্ট্রপক্ষকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হবে যে আসামিই অপরাধটি করেছেন। আজকের এই লেখায় ২০১৮ সালের একটি ইয়াবা উদ্ধার মামলার প্রকৃত ঘটনা ও আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে দেখানো হলো, কীভাবে একটি মামলা শুরুতে "শক্তিশালী" মনে হলেও তদন্ত ও সাক্ষ্যের ঘাটতির কারণে তা আদালতে টিকতে পারে না।

২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল কুষ্টিয়া মডেল থানা এলাকায় পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই ব্যক্তিকে আটক করে। অভিযোগ, তাদের পকেট থেকে ১০ পিস করে মোট ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। মামলাটি প্রমাণের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ মোট ৮ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে। কিন্তু তদন্ত করে দেখা যায়, এই মামলার ভিত্তি প্রথম থেকেই দুর্বল।

কেন এই মামলা প্রশ্নবিদ্ধঃ
ঘটনাস্থলটি ছিল একটি জনবহুল ও ব্যস্ত এলাকা — একটি দোকানের সামনের পাকা রাস্তা। ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারা অনুযায়ী তল্লাশি ও জব্দের সময় স্থানীয় অন্তত দুইজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখা বাধ্যতামূলক। অথচ এই মামলায় প্রকৃত স্বাধীন স্থানীয় সাক্ষী নেই বললেই চলে। অধিকাংশ সাক্ষীই অভিযানকারী পুলিশ দলের সদস্য, অর্থাৎ তারা মামলার ফলাফলে স্বার্থযুক্ত পক্ষ। উচ্চ আদালত বারবার বলেছেন, শুধু পুলিশ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাজা দেওয়া নিরাপদ নয়।

২. আলামতের হেফাজতে সন্দেহ
উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট সিলগালা করে নিয়মমাফিক মালখানায় জমা দেওয়া হয়েছিল কি না, রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো আলামতের ওজন-বর্ণনার সাথে জব্দ তালিকার মিল ছিল কি না — এসব বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো স্পষ্ট প্রমাণ দিতে পারেনি। ফলে আলামত হাতবদল বা পরিবর্তনের (Tampering) আশঙ্কা থেকে যায়।

৩. গোপন সংবাদের সত্যতা যাচাই হয়নি
"গোপন সংবাদ পেয়ে অভিযান" — এই দাবির স্বপক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে অবহিত করার আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। ফলে এই সংবাদ প্রকৃতই গোপন সূত্র থেকে এসেছিল, নাকি পূর্ব শত্রুতাবশত কেউ ভুল তথ্য দিয়েছিল, তা যাচাইয়ের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।

৪. পাবলিক সাক্ষীরাই মামলার বিপক্ষে
এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা হলো — জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসেবে থাকা সাধারণ (পাবলিক) সাক্ষীরা আদালতে এসে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য সমর্থন করেননি। তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয়টিও স্বীকার করেননি। উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাবলিক সাক্ষী যখন প্রসিকিউশনের পক্ষে সাক্ষ্য দেন না, তখন সেই ঘাটতি শুধু পুলিশ সাক্ষীদের সাক্ষ্য দিয়ে পূরণ করা যায় না — কারণ পুলিশ নিজেই এই মামলায় স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষ (২০ বিএলডি ৪২৬; ৫ বিএলসি ৫১৪)।

এমনকি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা একজন হোটেল মালিক বা রেলগেটের দারোয়ানের মতো সহজলভ্য সাক্ষীদেরও আদালতে হাজির করা হয়নি। আদালত বলেছেন — সাক্ষীরা হলেন ন্যায়বিচারের চোখ ও কান; গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের পরীক্ষা না করানো হলে মামলার সত্যতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে (৫৭ ডিএলআর (এইচসি) ৫১৩)।

৫. বাদী নিজেই সাক্ষ্য দিতে পারেননি
মামলার বাদী দুর্ঘটনাজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করায় তিনি নিজে সাক্ষ্য দিতে পারেননি। ফলে উদ্ধারকৃত মালামাল তিনি নিজে শনাক্ত করে যাননি — যা রাষ্ট্রপক্ষের মামলাকে আরও দুর্বল করে দেয়।

৬. তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে বলা বক্তব্যে গরমিল
প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীরা তদন্তের সময় (ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারা অনুযায়ী জবানবন্দিতে) যেসব কথা বলেননি, আদালতে এসে ঠিক সেই কথাগুলোই নতুন করে বলেছেন। আইনের ভাষায় এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বাদ পড়া তথ্য (omission) বক্তব্যের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক (contradiction) হিসেবে গণ্য হয়, যা সাক্ষ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে দেয়।

৭. তদন্তকারী কর্মকর্তার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০-এর ৩৯(২) ধারা অনুযায়ী মাদক মামলার তদন্তের ক্ষমতা মূলত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অধীনস্থ কর্মকর্তার। পুলিশ বা র‌্যাবের কোনো কর্মকর্তা, যিনি ওই অধিদপ্তরের অধীনস্থ নন, তার তদন্ত পরিচালনার এখতিয়ার নিয়ে আইনি প্রশ্ন থেকেই যায় (১৪ বিএলসি ৬৭৭)।

আইনি নীতি: সন্দেহের সুবিধা আসামির অধিকার, দয়া নয়
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত বারবার একটি কথাই বলে এসেছে — যতক্ষণ না দোষ প্রমাণিত হয়, ততক্ষণ আসামিকে নির্দোষ ধরে নিতে হবে (৪২ ডিএলআর ৩১, আপিল বিভাগ)। ফৌজদারি বিচারে আবেগ বা অনুভূতির কোনো স্থান নেই; আদালতকে চলতে হয় শুধু প্রমাণ ও আইনের আলোকে (১০ বিএলটি ৫২)।

যখন কোনো মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণে এত বেশি অসঙ্গতি, গরমিল ও ঘাটতি থাকে যে গোটা মামলাটিই সন্দেহজনক হয়ে ওঠে, তখন সেই সন্দেহের সুবিধা আসামির প্রাপ্য অধিকার — এটি কোনো দয়া বা করুণা নয় (৫৬ ডিএলআর ৩৫; ৭ বিএলটি ৩; ৪৩ ডিএলআর ৬, আপিল বিভাগ)। আসামিপক্ষের বক্তব্য পুরোপুরি সত্য প্রমাণিত না হলেও, তা যদি যুক্তিসঙ্গতভাবে সত্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে এবং রাষ্ট্রপক্ষের মামলাকে দুর্বল করে দেয়, তাহলেও আসামি খালাস পাওয়ার অধিকারী।

শেষ কথা
এই মামলার পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয় — শুধু "মাদক উদ্ধার হয়েছে" বলাটাই যথেষ্ট নয়। নিরপেক্ষ সাক্ষী না থাকা, আলামতের হেফাজতে সন্দেহ, তদন্তে ত্রুটি, পাবলিক সাক্ষীদের অসমর্থন এবং সাক্ষ্যের মধ্যে পরস্পরবিরোধিতা — এই সবকিছু মিলিয়ে একটি মামলা যখন সন্দেহের ঊর্ধ্বে ওঠে না, তখন আইন অনুযায়ী তার সুবিধা পাওয়ার অধিকার আসামির। এটাই ন্যায়বিচারের মূল ভিত্তি — প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা করাই আইনের প্রকৃত উদ্দেশ্য।

06/06/2026

সাধারণ ডায়েরি (General Diary বা GD):

সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হলো থানায় কোনো ঘটনা, তথ্য, অভিযোগ, হারানো বা পাওয়া যাওয়া মালামাল, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আশঙ্কা কিংবা অন্য কোনো বিষয় সম্পর্কে লিখিতভাবে তথ্য লিপিবদ্ধ করার একটি সরকারি প্রক্রিয়া।

সাধারণ ডায়েরির উদ্দেশ্য:

১. কোনো ঘটনা সম্পর্কে পুলিশকে অবহিত করা।
২. ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা।
৩. আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সহায়তা করা।
৪. হারানো কাগজপত্র বা মালামাল সম্পর্কে সরকারি রেকর্ড তৈরি করা।

যেসব ক্ষেত্রে জিডি করা হয়:

* জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, শিক্ষাগত সনদ হারিয়ে গেলে।
* মোবাইল ফোন, টাকা বা অন্যান্য মূল্যবান জিনিস হারিয়ে গেলে।
* প্রাণনাশ, হামলা বা হয়রানির আশঙ্কা থাকলে।
কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হলে।
* পারিবারিক বা সামাজিক বিরোধের বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করার প্রয়োজন হলে।

জিডিতে সাধারণত যা উল্লেখ করা হয়:

*আবেদনকারীর নাম, ঠিকানা ও পরিচয়।
*ঘটনার তারিখ, সময় ও স্থান।
*ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ।
*প্রয়োজনীয় সাক্ষী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তথ্য (যদি থাকে)।
*আবেদনকারীর স্বাক্ষর ও তারিখ।

05/05/2026

চেকের মামলায় আসামী খালাসে মহামান্য হাইকোর্টের তিনটি যুগান্তকারী নির্দেশনা!

চেক ডিসঅনার মামলায় আসামী তিনটি ডিফেন্স নিয়ে রীতিরকম খালাস পেতে পারেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ গত ১৪/১২/২০১৩ ইং তারিখে দুটি রিট পিটিশন যথাক্রমে ৩৬৮৯/২০১২ এবং ১২৪০১/২০১২ মামলায় অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, আসামী চেক ডিসঅনারের মামলায় তিন ধরণের ডিফেন্স নিতে পারবেন।
১। রিয়েল অর এ্যাবসলুইট ডিফেন্স অথাৎ যুক্তিসঙ্গত ডিফেন্স, ২। সমান্তরাল ডিফেন্স, ৩। লিগ্যাল ডিফেন্স।
এর মধ্যে ১ নং রিয়েল বা যুক্তিসংগত ডিফেন্স হচ্ছে চেক ইস্যু করার সময় আসামী শারীরিকভাবে সুস্থ ছিল না, যেমন-তখন সে পাগল, উম্মাদ বা বিচারবুদ্ধিহীনতায় ভুগছিল এমন বিষয় প্রমাণ করতে পারলে তা যুক্তিসংগত ডিফেন্স হিসেবে বিবেচিত হবে। আমাদের দন্ডবিধির ৮৪ ধারায় অনুরুপ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নেয়া যায়।

আবার চেক ইস্যু করার সময় আসামী মাতাল বা মানসিকভাবে সুস্থ ছিল না এটাও তার আত্মপক্ষ সমর্থনের উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। চেকে শুধু স্বাক্ষর দিলেই চলে না, তা যে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে কোনো দায়/দেনা পরিশোধের জন্য চেক দিয়েছিল তা বাদীকেই প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু আসামী পক্ষে যদি উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমানাদি, যেমন মেডিক্যাল সনদ, রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন ইত্যাদি দিয়ে দেখাতে পারেন যে, চেক ইস্যু করার সময় তাকে মাতাল করা হয়েছিল, তাহলে সেটি উপযুক্ত ডিফেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

আবার তর্কিত চেক ব্যাংকে উপস্থাপনের আগেই যদি চেকদাতা এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত কর্তৃক ঘোষিত হয়, সে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল, সেটিও আসামীর আত্মপক্ষ সমর্থনের ভাল ডিফেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

আবার নাবালক কর্তৃক চেক ইস্যু করা হলে বা নাবালকের পক্ষে কোন চেক ইস্যু করা হলে এবং ওই চেক ডিসঅনার হলে তার বিরুদ্ধে ১৩৮ ধারার মামলা করা যায় না।

আর চেক ইস্যু করার ক্ষেত্রে যদি কোনোরুপ ফ্রড, তঞ্চকতা বা মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে আসামী খালাস পাওয়ার অধিকারী হয়।

আবার এন.আই এ্যাক্টের ৮৭ ধারার বিধান অনুযায়ী চেকের বিষয়বস্তুর কোনো পরিবর্তন দেখা গেলে আসামী সে সুযোগ গ্রহণ করতে পারে। শুধু তাই নয়, আসামী যদি প্রমাণ করতে পারে যে, তর্কিত চেকটি বাদী জালিয়াতি করে সৃষ্টি করেছে বা চেকে দেয়া স্বাক্ষরটি জাল করা হয়েছে বা চেকে উল্লেখিত টাকার পরিমাণ কাটাকাটি করে লেখা হয়েছে, তবে অনুরুপ ক্ষেত্রে আসামী খালাস পাওয়ার যোগ্য হয়। মামলা দায়েরের আগেই বাদীর দাবীকৃত টাকা আসামী নগদে পরিশোধ করে থাকলে আবার চেকের উপর ওভাররাইটিং থাকলে কিংবা টে¤পারিং করে তর্কিত চেকের টাকার অংক পরিবর্তন করলেও আসামী খালাস পাবে। এক্ষেত্রে ভারতের পাঞ্জাব এবং হরিয়ানা হাইকোর্ট ২০১০ সালে ডিসিআর ১ নং ভলিউমের ১০৮ পৃষ্ঠায় একটি দারুন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

আসামী যদি আরও দেখাতে পারে যে, তাকে অবৈধভাবে ভয় দেখিয়ে বা জোর জবরদস্তি করে চেকে সই করতে বাদীপক্ষ বাধ্য করেছিল তাহলে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিফেন্স হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। উপরোক্ত বিষয়গুলোর যে কোন একটি প্রমাণ করতে পারলেই আসামী চেক ডিসঅনারের মামলায় খালাস পেতে পারে।

প্রতিদান ছাড়া যেমন চুক্তি হয় না, তেমনি প্রতিদান ছাড়া কোন হস্তান্তরযোগ্য দলিল কার্যকর করা যাবে না। কাজেই স্বাক্ষর সহ চেক কারও নিকট হস্তগত হলেই কিংবা ব্যাংক ডিসঅনার করলেই চেকের মামলায় আসামীকে শায়েস্তা করা যাবে না। প্রতিদান বা দেনা পাওনা বা লেনদেন প্রমাণ করতে না পারলে মামলায় আসামী খালাস পাবে-এমনটিই বলেছেন উচ্চ আদালত। (লোকমান বনাম আয়ুব আলী এবং রাষ্ট্র মামলা, যা ৩৮ বিএলডি, পৃষ্ঠা ৬১৬, ৬১৭-৬২০)।

আসামী কোন প্রেক্ষাপটে তর্কিত চেকটি ইস্যু করেছিল আত্মপক্ষ সমর্থনে সেটা প্রমাণ করার অধিকার আসামীর রয়েছে। কারণ এন.আই এ্যাক্টের ১১৮ ধারার অধীনে ধর্তব্য অনুমান খন্ডনযোগ্য। আসামী আত্মপক্ষ সমর্থনে তর্কিত চেকের বিপরীতে কোনো কিছু বলতে চাইলে তা অতি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হয়। কেননা উক্ত চেকটি সে কেন ইস্যু করেছিল তা বলার অধিকার তার রয়েছে। আসামী বাদী পক্ষের সাক্ষীকে জেরা করে কিংবা সাফাই সাক্ষী দিয়ে অথবা উপযুক্ত কোন সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করে অনুরুপ অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। (মহেষ চন্দ্রিকার বনাম দত্তরাম, বোম্বে হাইকোর্ট, ২০০৯(২) ডিসিআর ১৮৫)।

নালিশী চেকের বিপরীতে বাদী কর্তৃক দাবীকৃত প্রতিদান (কনসিডারেশন) অসম্ভব বা সন্দেহযুক্ত মর্মে যদি আসামী প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়, তাহলে তা প্রমাণের দায়িত্ব আসামীপক্ষ থেকে বাদীপক্ষের উপর ন্যাস্ত হয়। (ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট (১৯৯৩) ৩ এসসিসি ৩৫)।

এন.আই এ্যাক্টের ১৩৮ ধারা এবং সাক্ষ্য আইনের ৪৫ ধারা একত্রে পর্যালোচনা করে ভারতের মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট সোহানলাল সিংহল এবং অন্যান্য বনাম সুনিত জাইন (২০১৫ (২) ডিসিআর ৪৯৬) মামলায় বর্ণনা করেন যে, তর্কিত চেকের লেখার ভিন্নতা বিষয়ে আসামীপক্ষ আপত্তি তোলার পর তা হস্তলেখা বিশারদ দ্বারা পরীক্ষা করানোর আবেদন বিচারিক আদালত কর্তৃক প্রত্যাখান করা বেআইনী আদেশ বলে গণ্য হবে। কেননা উক্ত বিষয়ে আসামী উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করে আত্মপক্ষ সমর্থন করার আইনানুগ অধিকারী। কাজেই চেকের স্বাক্ষর না মেলা চেকের অন্যন্য কলামগুলো ভিন্ন হাতের লেখা হলে চেক প্রাপ্তির বিষয়টি সন্দেহের সৃষ্টি করে এবং এ সন্দেহ প্রতিষ্ঠা করে একজন আসামী খালাস পেতে পারে।

আবার আসামীর স্বাক্ষর, টাকার অংক এবং পেয়ীর নাম ভিন্ন হাতের লেখা হলে এন.আই এ্যাক্টের ৩ (ই) ধারার বিধান অনুসারে এটাকে ইস্যুয়েন্স অব চেক বলা যাবে না। সেই চেক আইনানুগভাবে বৈধ হবে না। এ বিষয়ে ৫৬ ডিএলআর ৬৩৬ পৃষ্ঠায় একটি দারুন সিদ্ধান্ত আছে। উপরোক্ত কারণসমূহের যে কোন একটি পালিত না হলে চেক ডিসঅনারের মামলায় আসামী খালাস পেতে পারেন।
(সংগৃহীত)

11/04/2026

প্রবাসে থেকেও দেশের জমি বিক্রি, রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনা করবেন কীভাবে? পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি বা ক্ষমতাপত্রের জন্য করনিয় :

অনেকে বিদেশে অবস্থান করছেন, ইচ্ছে করলেই দেশে আসতে পারেন না। কিন্তু বিদেশে বসেই দেশে থাকা জমি ক্রয়-বিক্রয়, দেখাশোনার দায়িত্ব কিংবা আপনার পক্ষে মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনা, ব্যাংক লোন নেয়া বিশেষ জরুরী হয়ে পড়েছে। নো টেনশন! প্রয়োজনীয় এসব কাজ সম্পাদনের জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় আপনি বিশ্বস্থ কারও উপর পাওয়ার অব এ্যাটর্নি দলিল সম্পাদন অর্থাৎ ক্ষমতাপত্র দিতে পারেন। তিনি আপনার পক্ষে আপনার প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পাদন করতে পারেন।

আপনি যে কাজটি করতে চান, সেই কাজের জন্য প্রথমে একটি পাওয়ার অব এ্যাটর্নী বা আমমোক্তারনামা বা ক্ষমতাপত্র দলিল তৈরী করুন। এটি সাদা কাগজেই লিখতে পারবেন। নিজে না পারলে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে লিখিয়ে নিতে পারেন। তিনি ড্রাফট প্রস্তুত করে আপনাকে ইমেইল কিংবা কুরিয়াতে পাঠিয়ে দিতে পারেন। উক্ত ড্রাফট পেপারের উপর অবশ্যই আপনার পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং যাকে ক্ষমতাপত্র দিচ্ছেন তারও একটি ছবি সংযুক্ত থাকতে হবে। সাথে উভয়েরই আইডি কার্ড ক্ষেত্রমতে আপনার পাসপোর্ট, ভিসাও সংযুক্ত করা যেতে পারে। অনেক সময় আয়কর সার্টিফিকেটও চাইতে পারে। জমির পাওয়ার অব এ্যাটর্নীর ক্ষেত্রে উক্ত জমির হালনাগাদ কাগজপত্র যেমন দলিল, মিউটেশন, পরচা, খাজনার দাখিলা ইত্যাদিও সংযুক্ত করা লাগতে পারে।

এরপর ড্রাফটি নিয়ে সোজা চলে যান আপনি যে দেশে বসবাস করছেন, উক্ত দেশে অবস্থিত বাংলাদেশী দূতাবাসে। সেখানে গিয়ে জমা দিন। সেখানে বাংলাদেশের দূতাবাসের কনস্যুলারের সম্মুখে আপনি স্বাক্ষর করবেন এবং উক্ত কনস্যুলার কর্তৃক তা সত্যায়িত হবার পর আপনি যার উপর ক্ষমতা দিয়েছেন বাংলাদেশে আপনার সেই ভাই, বোন কিংবা বিশ^স্থ ব্যক্তির বরাবর পাঠিয়ে দিন। তিনি ড্রাফটি হাতে পাওয়ার সোজা চলে যাবেন বাংলাদেশের ফরেন মিনিষ্ট্রি (পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়) এর দপ্তরে। সেখানে গিয়ে সত্যায়নের জন্য জমা দেবেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সহকারী সচিব, কনস্যুলার সেটা যাচাই বাচাই কওে সত্যায়ন করে দেবেন। এ কাজটি সম্পাদনের জন্য ক্ষেত্রমতে ৭ থেকে ১০ দিন কিংবা আরো বেশী লাগতে পারে। সত্যায়নের কাজটি হয়ে গেলে সোজা চলে যাবেন আপনার জেলার ডিসি মহোদয়ের কার্যালয়ে। সেখানে গিয়ে একটি আবেদন লিখে আবেদনের উপর ২০ টাকা কোর্ট ফিস লাগিয়ে ই-সেবা কেন্দ্রে জমা দিন। তবে অবশ্যই সিল স্বাক্ষরযুক্ত একটি রিসিভ কপি করে নিবেন। যাতে জেলা প্রশাসন থেকে কোনভাবে হারিয়ে না যায়।

এরপর জেলা প্রশাসক স্বাক্ষর করে পাঠিয়ে দেবেন এডিসি (রেভিনিউ) কার্যালয়ে। তিনি আবার নোট দিয়ে আপনার বিদেশে সম্পাদিত আম-মোক্তার নামা দলিলে বর্ণিত সম্পত্তিতে সরকারী স্বার্থ জড়িত আছে কিনা তার তথ্যসহ সকল দাগের তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন প্রেরণ করতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর চিঠি প্রেরণ করবেন। সেই সাথে ড্রাফটের সত্যতা যাচাইয়ের আরেকটি চিঠি প্রেরণ করবেন সহকারী সচিব (কনস্যুলার) পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় বরাবর। সকল তথ্যসমগ্র জেলা প্রশাসকের রাজস্ব কার্যালয়ে আসার পর ২,০০০/- টাকার চালান প্রদানের পর নিদিষ্ট একটি সময়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এতে ৫০০ এবং অপর পাতায় ৫০০ টাকার দুটি আঠালো স্ট্যাম্প লাগাবে। এসব করতে ন্যূনতম ১৫ দিন কিংবা তার চেয়েও বেশী সময় লাগতে পারে। অত্র পাওয়ার অব এ্যাটর্নির দলিল নম্বর পড়বে। এরপর জমি বিক্রি, রেজিস্ট্রির প্রয়োজন হলে সোজা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে জমা দিলে কাজটি হয়ে যাবে। তবে আনন্দের সংবাদ এই যে, জমি রেজিস্ট্রেশন এ্যাক্ট সংশোধণের পর এ পাওয়ার অব এ্যাটর্নী ড্রাফটের মেয়াদ বৃদ্ধি পেয়েছে ৬ মাস। এই ৬ মাসের মধ্যে আপনার কাজগুলি সম্পাদন করতে হবে। এটি রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮ এর ধারা ৮৯ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংশ্লিষ্ট সাব রেজিস্ট্রার ১নং বহিতে নথিভূক্ত করে সংরক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

অনেকেই মনে করেন পাওয়ার অব এ্যাটর্নি একবার দিয়ে দিলে তা আর বাতিল করা যায় না। তবে এটি একটি ভুল ধারনা। আপনি চাইলেই এটার অবসান করতে পারবেন। যার উপর ক্ষমতা দিয়েছেন সেই গ্রহীতাকে আপনি রেজিস্ট্রার্ড ডাকের মাধ্যমে ৩০ দিনের নোটিশ প্রদানপূর্বক প্রদত্ত ক্ষমতার অবসান ঘটাতে পারবেন। আবার পাওয়ার গ্রহীতাও পাওয়ার দাতাকে ৩০ দিনের নোটিশ প্রদানপূর্বক পাওয়ার অব এ্যাটর্নির দায়িত্ব পরিত্যাগ করতে পারবেন। এই বিধানগুলো পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২ এর ধারা ১১-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখিত।

11/04/2026

বৃদ্ধ বয়সে অস্বচ্ছল পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব আইনগতভাবে সন্তানের উপর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে Parents Maintenance Act 2013- এর মাধ্যমে।

📌 আইনের মূল উদ্দেশ্য:
👉 বয়স্ক ও অসহায় পিতা-মাতার খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান ও দেখাশোনা নিশ্চিত করা।
👉 সন্তানদের দায়িত্বশীল করা।

👨‍👩‍👧‍👦 কার ওপর দায়িত্ব?
ছেলে ও মেয়ে—উভয়েরই সমান দায়িত্ব
একাধিক সন্তান থাকলে, সবাই মিলে দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে।

📋 কী কী অন্তর্ভুক্ত?
ভরণ-পোষণের মধ্যে রয়েছে:
🍚 খাবার
🏠 থাকার ব্যবস্থা
💊 চিকিৎসা
👵 দৈনন্দিন যত্ন।

⚖️ আইন না মানলে কী শাস্তি?
👉 যদি সন্তান ইচ্ছাকৃতভাবে ভরণ-পোষণ না করে, তাহলে:
জরিমানা হতে পারে
বা কারাদণ্ড (সাধারণত ১ মাস পর্যন্ত)
অথবা উভয়ই হতে পারে।

📝 কোথায় অভিযোগ করবেন?
👉 নিকটস্থ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে অভিযোগ করা যায়।

⚠️ গুরুত্বপূর্ণ দিক:
পিতা-মাতা চাইলে আদালতের মাধ্যমে ভরণ-পোষণ দাবি করতে পারেন
কেউ যদি পিতা-মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে দেয় কিন্তু খরচ না দেয়, সেটাও আইনের আওতায় অপরাধ।

⭐ সারাংশ-
👉 এই আইন অনুযায়ী, পিতা-মাতার দেখাশোনা করা শুধু নৈতিক দায়িত্ব নয়, আইনগত বাধ্যবাধকতা যা অমান্য করলে আইনগত ভাবে শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় ।

যোগাযোগ :
মাজহারুল আনোয়ার উজ্জ্বল
এডভোকেট
বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট
মোবাইল: ০১৭১৬-৫৪৬৮৪৮।

11/04/2026

সাকসেশন সার্টিফিকেট (Succession Certificate):

আইনি সনদ, যা দেওয়ানি আদালত থেকে আবেদনের মাধ্যমে পাওয়া যায়। এটি মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি, টাকা-পয়সা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, শেয়ার ইত্যাদি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন বা তোলার অধিকার প্রমাণ করে।

📌 কেন দরকার?
👉 যখন কেউ মারা যান এবং তার নামে
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
ফিক্সড ডিপোজিট
শেয়ার/বন্ড
অন্যান্য আর্থিক সম্পদ থাকে
তখন সেগুলো তুলতে বা দাবি করতে এই সার্টিফিকেট লাগে।

📋 কোথা থেকে পাওয়া যায়?
👉 সাধারণত জেলা জজ কোর্ট / দেওয়ানি আদালত থেকে পাওয়া যায়।

📝 প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সনদ (Death Certificate)
আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
উত্তরাধিকারীদের তালিকা (Legal Heirs)
সম্পত্তি বা টাকার প্রমাণ (ব্যাংক স্টেটমেন্ট ইত্যাদি)
প্রয়োজন হলে হলফনামা (Affidavit)

⚖️ প্রক্রিয়া (সংক্ষেপে)
আদালতে আবেদন (পিটিশন) করতে হয়
কোর্ট নোটিশ দেয় (অন্যান্য উত্তরাধিকারীদের জন্য)
কোনো আপত্তি না থাকলে শুনানি শেষে
বিচারক সাকসেশন সার্টিফিকেট প্রদান করে

⏱️ কত সময় লাগে?
👉 সাধারণত ১–৩ মাস, তবে কেস অনুযায়ী বেশি সময়ও লাগতে পারে।

⚠️ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
এটি শুধু আর্থিক সম্পদের জন্য, জমি/বাড়ির মালিকানা প্রমাণের জন্য নয় যদি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বিরোধ থাকে, তাহলে মামলা জটিল হতে পারে।

যোগাযোগ :
মাজহারুল আনোয়ার উজ্জ্বল
এডভোকেট
বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট
মোবাইল: ০১৭১৬-৫৪৬৮৪৮।

10/04/2026

চেকের মামলায় নোটিশ জারি নিয়ে যুগান্তকারী রায়ঃ ৩৯ বিএলডি ও ৬৪ ডিএলআর-এর ব্যাখ্যা

ব্যাংকিং বা ব্যবসায়িক লেনদেনে 'চেক ডিজনার' বা এন.আই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার মামলার প্রাণভোমরা হলো 'লিগ্যাল নোটিশ'। যদি লিগ্যাল নোটিশ জারিতে সামান্যতম ত্রুটি থাকে, তবে পুরো মামলার ভিত্তি ধসে যেতে পারে। উচ্চ আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বারবার উঠে এসেছে, নোটিশ জারি না হওয়া বা জারিতে অনিয়ম আসামিকে খালাস দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

এম.এ লতিফ বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য মামলা যা ৯ বিএলডি (২০১৯) ২২২ (হাইকোর্ট বিভাগ) মামলার মূল ঘটনায় দেখা যায় এই মামলায় আসামি (দরখাস্তকারী) এর বিরুদ্ধে একটি চেক ডিজনারের অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগকারী দাবি করেন যে, চেকটি ব্যাংক থেকে ফেরত আসার পর তিনি আইন অনুযায়ী আসামিকে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। অন্যদিকে, আসামি দাবি করেন যে তিনি কোনো নোটিশ গ্রহণ করেননি এবং অভিযোগকারী নোটিশ জারির কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ যেমন: একনলেজমেন্ট ডিউ বা এডি কার্ড আদালতে পেশ করতে পারেননি।

মূল প্রশ্নটি ছিল কেবল ডাকযোগে নোটিশ পাঠানোই কি ১৩৮ ধারার শর্তপূরণের জন্য যথেষ্ট, নাকি সেটি আসামির নিকট পৌঁছানো বা পৌঁছানোর চেষ্টার বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকলে তার সুবিধা আসামি পাবেন?

হাইকোর্ট বিভাগ মামলাটি পর্যালোচনাকালে কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন। ১৩৮ ধারার (বি) উপধারা অনুযায়ী, চেক ডিজনার হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে দেনাদারকে লিখিত নোটিশ প্রদান করা একটি আবশ্যিক পূর্বশর্ত। এই শর্ত পূরণ না হলে মামলার কোনো ভিত্তি থাকে না। আদালত বলেন, যদি নোটিশ জারির বিষয়ে কোনো যৌক্তিক সন্দেহ তৈরি হয় এবং রেকর্ড থেকে দেখা যায় যে আসামি নোটিশটি পাওয়ার সুযোগ পাননি বা ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাননি, তবে সেই সন্দেহের সুবিধা আসামি পাবেন। এক্ষেত্রে অভিযোগকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি সঠিক ঠিকানায় নোটিশটি পাঠিয়েছিলেন। যদি পোস্টাল রসিদ বা জারিকারকের রিপোর্টে কোনো অসংগতি থাকে, তবে ধরে নেওয়া হবে যে নোটিশ যথাযথভাবে জারি হয়নি। এ বিষয়ে আদালত মন্তব্য করেন যে, কোনো ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ অর্থাৎ নোটিশের মাধ্যমে টাকা পরিশোধের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি ফৌজদারি জালে জড়ানো ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এর ফলে উচ্চ আদালত আসামির দ-াদেশ বাতিল করেন এবং তাকে মামলার দায় হতে খালাস প্রদান করেন।

মোঃ আজহার আলী বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য মামলা, ৬৪ ডিএলআর (২০১২) ২৫৫ মামলার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্টের ২৭ ধারা মতে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিশ পাঠালে একটি প্রাথমিক অনুমান তৈরি হয় যে নোটিশটি পৌঁছেছে। কিন্তু এটি একটি বা খ-নযোগ্য অনুমান। যদি আসামি প্রমাণ করতে পারেন যে পিয়নের রিপোর্ট ভুল ছিল বা ঠিকানা সঠিক থাকা সত্ত্বেও তিনি নোটিশ পাননি, তবে মামলার কার্যকারিতা থাকবে না। উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নোটিশ জারির ত্রুটি কোনো সামান্য টেকনিক্যাল ভুল নয়; এটি একটি মৌলিক ভুল। যেহেতু ১৩৮ ধারা একটি বিশেষ আইন এবং এটি দ-মূলক, তাই এর শর্তাবলী কঠোরভাবে পালন করতে হয়। যদি বাদী প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন যে তিনি আইনসম্মতভাবে নোটিশ জারি করেছেন, তবে আসামি ফৌজদারি দায় থেকে মুক্তি পাবেন।

ধারা ২৭-এর শুরুতেই বলা আছে, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট (১৮৯৭) পাস হওয়ার পর যেসব আইন তৈরি হয়েছে, কেবল সেই আইনগুলোর ক্ষেত্রেই ২৭ ধারার এই সুবিধা পাওয়া যাবে।

লিগ্যাল নোটিশ হলো এন.আই অ্যাক্টের মামলার প্রবেশদ্বার। এই দ্বারে ত্রুটি থাকলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত আসামিকে খালাস দিতে বাধ্য। আইনজীবীদের উচিত নোটিশ জারির সময় পোস্টাল রসিদ, এডি কার্ড এবং সঠিক ঠিকানার দিকে নজর রাখা। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ যদি প্র্রমাণ করতে পারে যে নোটিশটি তাদের হাতে পৌঁছায়নি বা জারিকারক কোনো কারসাজি করেছে, তবে তারা খালাস পাওয়ার পূর্ণ দাবিদার।

copy

08/04/2026

চেকের মামলায় যুগান্তকারী মোড়! বৈধ লেনদেনের প্রমাণ ছাড়া জেল হওয়ার দিন শেষ।

বাংলাদেশে চেক ডিসঅনারের মামলা একটি ফৌজদারি অপরাধ। এ মামলায় আসামিকে সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদ- বা চেকের অঙ্কের তিনগুণ জরিমানা বা উভয় হতে পারে। কিন্তু মামলা টিকবে শুধুমাত্র যদি চেকটি কোনো বৈধ ঋণ বা দায় পরিশোধের জন্য ইস্যু করা হয়ে থাকে।

লেনদেন, দেনা-পাওনা বা কোনো প্রতিদান (কনসিডারেশন) না থাকা সত্ত্বেও যদি কোনোভাবে চুরি, জালিয়াতি, বলপ্রয়োগ, সিকিউরিটি হিসেবে বা ফাঁকা চেক হিসেবে চেক কারও হাতে চলে যায়, তাহলে সেই চেক দিয়ে সফল মামলা করা যাবে না।

প্রতিদানবিহীন হস্তান্তরযোগ্য দলিল বিষয়ে যখন পক্ষগণের মধ্যে কোন প্রতিদান (কনসিডারেশন) থাকে না, সেখানে হস্তান্তরযোগ্য দলিল অকার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। প্রতিদান ছাড়া যেমন চুক্তি হয় না, তেমনি প্রতিদান ছাড়া কোন হস্তান্তরযোগ্য দলিল চেক কার্যকর করা যাবে না। কাজেই স্বাক্ষরসহ চেক কারও নিকট হস্তগত হলেই কিংবা ব্যাংক ডিসঅনার করলেই চেকের মামলায় আসামীকে শায়েস্তা করা যাবে না।

দেনা পাওনা বা লেনদেন প্রমাণ করতে না পারলে মামলায় আসামী খালাস পাবে-এমনটিই বলেছেন উচ্চ আদালত। (লোকমান বনাম আয়ুব আলী এবং রাষ্ট্র মামলা, যা ৩৮ বিএলডি, পৃষ্ঠা ৬১৬, ৬১৭-৬২০) উল্লেখ রয়েছে। কেস ষ্টাডিটি এরকম যে, বাদী কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামীর বিরুদ্ধে এই মর্মে নালিশী মামলা দাখিল করেন যে, আসামী বাদীর নিকট থেকে ঋণ হিসেবে ৪০ লক্ষ টাকা গ্রহণ করার পর উক্ত ঋণ পরিশোধের নিমিত্তে উক্ত পরিমাণ টাকা সম্বলিত একটি চেক বাদীর অনুকূলে ইস্যু করেন। উক্ত চেক নগদায়নের জন্য ব্যাংকে জমা দিলে ‘সিগনেচার ডিফারস’ অর্থাৎ চেকের স্বাক্ষরে মিল নেই মন্তব্যসহ ডিসঅনার হয়। এরপর বাদী আসামী বরাবর একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন। আসামী উক্ত লিগ্যাল নোটিশ প্রাপ্ত হলেও বাদীর অনুকূলে টাকা পরিশোধের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করে নাই। নালিশটি দায়েরের পর আসামী সমন প্রাপ্ত হয়ে জামিন হলে মামলাটি বিচারের জন্য কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ, ৪র্থ আদালতে আসলে আদালত উভয় পক্ষের সাক্ষ্য প্রমাণাদি নিয়ে আসামীকে এ মামলার দায় থেকে খালাস দেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন যে, আসামী সাফাই সাক্ষ্যর মাধ্যমে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, বাদীর সাথে তার বৈধ কোন লেনদেন বা চেক সম্পর্কিত কোন কনসিডারেশন ছিল না। উক্ত রায় ও আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ হয়ে বাদী হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারী আপিল দায়ের করলে হাইকোর্টের একটি একক বেঞ্চ নিম্ন আদালত কর্তৃক প্রচারিত আদেশ বহাল রাখেন। ওই রায়ে হাইকোর্ট বিভাগ এন.আই এ্যাক্টের ধারা ৯ এবং ৪৩ ধারা ব্যাখ্যা করে মন্তব্য করেন যে, মামলার ঘটনা এবং পরিবেশ পরিস্থিতি প্রমাণ করে না যে, বাদী আপিলকারী নালিশী চেকটির হোল্ডার-ইন-ডিউ কোর্স ছিলেন। আদালত আরও মন্তব্য করেন যে, নালিশী চেকটির বিপরীতে কী কনসিডারেশন ছিল তা বাদী প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আসামী সাফাই সাক্ষী দিয়ে ডিফেন্স প্লী প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আসামী সাফাই সাক্ষীর মাধ্যমে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, আসামী কোন ঋণ পরিশোধের জন্য তর্কিত চেকটি বাদীর অনুকুলে ইস্যু করে নাই।

ধারা ১৩৮ এর অধীনে বিচার শুধুমাত্র চেকের বাহ্যিক সত্যতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আদালতকে অভিযোগকারীর দাবির ন্যায্যতা এবং আসামীর আত্মপক্ষ সমর্থনের বিষয়গুলোও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করতে হবে। (১৯ এএলআর, ৫৬)

আবার আসামীর স্বাক্ষর, টাকার অংক এবং পেয়ীর নাম ভিন্ন হাতের লেখা হলে এন.আই এ্যাক্টের ৩ (ই) ধারার বিধান অনুসারে এটাকে ইস্যুয়েন্স অব চেক বলা যাবে না। সেই চেক আইনানুগভাবে বৈধ হবে না। এ বিষয়ে ৫৬ ডিএলআর ৬৩৬ পৃষ্ঠায় একটি দারুন সিদ্ধান্ত আছে।

রাষ্ট্রপক্ষকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হবে যে, চেক প্রদানের সময় বিনিময় প্রহণ করা হয়েছে। যদি অনুরূপ প্রমাণে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয় তবে মামলা ব্যর্থ হবে। উপসংহারে বলা যায় যে, বিনিময় প্রমাণে ব্যর্থ হলে, নালিশী চেক আসামী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হলেও বিনিময় নেই মর্মে গণ্য হবে। [২৬ বিএলসি (এইচসিডি) ২০২১, ৩১৫, এরশাদ আলী মোঃ এরশাদ উল্লাহ বনাম রাষ্ট্র]

কাজেই শুধু চেক কারও নিকট থাকলেই চেকের মামলায় সাজা দেয়া যাবে না। লেনদেন, দেনা পাওনা কিংবা কোন প্রতিদান, কনসিডারেশন ছিল এমনটি প্রমাণ করতে হবে। নতুবা আসামী খালাস পাবে।

03/04/2026

চেকের মামলার নালিশী আরজিতে ভুল হয়েছে? নো টেনশন! যেকোনো পর্যায়েই তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে!

সাধারণত ফৌজদারি মামলায় নালিশী দরখাস্ত সংশোধনের সরাসরি কোনো বিধান নেই। কিন্তু চেকের মামলাগুলো অনেকটা দেওয়ানী প্রকৃতির হওয়ায়, বিচারিক প্রয়োজনে মামলার যেকোন পর্যায়ে আরজি সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। যেমন লিগ্যাল নোটিশ বা আরজিতে অনেক সময় চেকে উল্লেখিত টাকার পরিমাণ, তারিখ, চেকের নম্বর কিংবা ব্যাংকের নাম লিখতে গিয়ে করণিক ভুল হতে পারে। যেহেতু এই মামলাগুলো সুনির্দিষ্ট টেকনিক্যাল বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাই ছোটখাটো ভুলের কারণে অনেক সময় ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ অবস্থায় মামলার বিচার চলাকালে যেকোনো পর্যায়ে সংশোধনের আবেদন করা যেতে পারে।
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০২৫ সালে ‘বনসাল মিল্ক সিলিং সেন্টার বনাম রানা মিল্ক ফুড প্রাইভেট’ মামলায় স্পষ্ট রায় দিয়েছেন যে, ধারা ১৩৮-এর অভিযোগপত্র কগনিজেন্স হওয়ার পরও সংশোধন করা যাবে, যদি তাতে আসামির কোনো ক্ষতি না হয় এবং মামলার মূল চরিত্র পরিবর্তন না হয়। এই রায়টি বাংলাদেশের আদালতেও গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত জানিয়েছেন, বিচারক যদি মনে করেন ন্যায়বিচারের স্বার্থে নালিশী দরখাস্তের কোনো করণিক ভুল সংশোধন করা প্রয়োজন, তবে তিনি তা মঞ্জুর করতে পারেন। এখানে আদালতের সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করে আরজি সংশোধণের বিষয় বলা হয়েছে। আরজি সংশোধন করা হলে তা আসামির পক্ষকে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত বা বিচারে বিঘœ না ঘাঁয়, রায়ে সে বিষয়েও জোর দেয়া হয়েছে।
মোঃ শফিক বনাম মেজর একেএম আকতারুজ্জামান (অবসরপ্রাপ্ত), ক্রিমিনাল মিস কেস নং ১১৭৬৯/২০০৯ (আনরিপোর্টেড) মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ গত ০৮-০৭-২০০৯ তারিখে মন্তব্য করেন ১৩৮ ধারার নালিশী দরখাস্ত সংশোধন করা যায়। অন্যদিকে এন.আই. এ্যাক্টের ১৪০ (১) ধারার বিধান অনুসরণ করে যখন কোন কোম্পানীকে ১৩৮ ধারার মামলায় পক্ষ করা হয় না অনুরুপ ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ নালিশী দরখাস্ত সংশোধন করে কোম্পানীকে পক্ষভূক্ত করার নির্দেশ দেন। আনরিপোর্টেড ফৌজাদারী বিবিধ মামলা নং ৭৫১৭/২০০৩ এ হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ কোয়াশমেন্ট প্রসিডিং নিষ্পত্তি করতে গিয়ে উপরোক্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করেন।

সংশোধনী দরখাস্তের নমুনা ছিল এরকম যে, বর্তমান মামলাটি মাননীয় আদালতে বিচারের পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি বাদীপক্ষে নিয়োজিত বিজ্ঞ আইনজীবীর গোচরীভূত হয়েছে যে, এই মামলায় ভুলক্রমে আনোয়ার এন্টারপ্রাইজের নামক আসামী শ্রেণিভূক্ত করা হয় নাই। বর্ণিত আনোয়ার এন্টারপ্রাইজের পক্ষে তার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে রাব্বি নালিশী চেকটি বাদীর অনুকুলে ইস্যু করেছে বিধায় অত্র মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করণার্থে উক্ত আনোয়ার এন্টারপ্রাইজ আসামী শ্রেণিভূক্ত করা প্রয়োজন এবং সে কারণে সূত্রে বর্ণিত নালিশী মামলার দরখাস্ত সংশোধন করা একান্ত আবশ্যক।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এ কথা স্পষ্ট বলা যায় যে, এন.আই. অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার মামলার নালিশী আরজি সংশোধন কোনোভাবেই নিষিদ্ধ নয়। ভারত ও বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের নজির স্পষ্ট করেছে যে, করণিক ভুল বা টাইপিং মিসটেক সংশোধনের আবেদন মঞ্জুর করা আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত। তাই মামলার বাদী যদি আরজিতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংযোজন বা সংশোধন করতে চান, তবে তিনি আইনগতভাবেই সেই সুযোগ পেতে পারেন।

Address

২২ কোর্ট হাউজ স্ট্রিট, পারজোয়ার সেন্টার, ৫ম তলা, রুম নং-এফ-১৫, কোতোয়ালী
ঢাকা।

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Telephone

+8801716546848

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Advocate Mazharul Anawer Uzzal posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Advocate Mazharul Anawer Uzzal:

Shortcuts

Share